ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

২০ বছর পালিয়ে থেকেওে শেষ রক্ষা হলোনা রুবেল হত্যা আসামী ওমর আলীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ বছর পালিয়ে থেকেওে শেষ রক্ষা হলোনা রুবেল হত্যা মামলার পলাতক আসামী ওমর আলীর। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত রুবেল হত্যা মামলার দীর্ঘ ২০ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে থাকা পলাতক ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ওমর আলীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেফতার ওমর আলী উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামের মৃত মো. সোলেমানের ছেলে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার এম আরিফ হোসেন। এর আগে গতকাল রাতে তাকে ঢাকার সাভার উপজেলা বলিয়ারপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, ওমর আলী ও ভিকটিম রুবেল একই এলাকায় বসবাস করতেন। ভিকটিম রুবেলের বাবা সামছুল হকের সাথে আগে থেকেই জমি-জমা নিয়ে ওমর আলীর বিরোধ ছিল। ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে জমির চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ভিকটিম রুবেল ও ভিকটিমের বাবা সামছুল হকের সাথে ওমর আলীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ বিরোধের জের ধরে ২০০১ সালের ২৬ এপ্রিল রুবেলকে রওশন আলীর মাঠে একা পেয়ে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ওমর আলী ও তার সহযোগী ইব্রাহিম, রাজ্জাক, হানিফসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম রুবেলকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ওই মাঠের দক্ষিণ পাশের নালায় বস্তায় বেধে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
ভিকটিমের বাবা সামছুল হক তার ছেলেকে কোথায় খুঁজে না পেয়ে সিংগাইর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। ভিকটিমের বাবা জানতে পারে যে, সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে রওশন আলীর মাঠের দক্ষিণ পাশের নালার মধ্যে বস্তা ভর্তি একটি লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সামছুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে উক্ত লাশটি তার ছেলে রুবেলের বলে সনাক্ত করে। স্থানীয়রা সিংগাইর থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশটি নালা থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদও হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
ভিকটিমের বাবা সামছুল হক বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় ওমর আলী ও তার সহযোগী ইব্রাহিম, রাজ্জাক, হানিফসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামী ওমর আলী ও তার সহযোগী হত্যাকারী ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফকে সিংগাইর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা ১৭ মাস কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পায়। আসামী ওমর আলী জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর আলী, ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফদেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে চার্জশীটের ভিত্তিতে আদালত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ভিকটিম রুবেল হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ চার্জশীটে অভিযুক্ত আসামী ওমর আলীকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন এবং অপর আসামী ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফকে মামলা থেকে খালাশ প্রদান করেন।
লে. কমান্ডার এম আরিফ হোসেন জানান, পলাতক আসামী ওমর আলী মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে গত ২০ বছর যাবৎ পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় গ্রেপ্তার এড়ানোর লক্ষ্যে ওমর আলী এলাকা থেকে পালিয়ে ঢাকার সাভার এলাকায় চলে আসে। গত ২০ বছর ধরে আসামী ওমর আলী ঢাকা জেলার আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে আত্মগোপনে থেকে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। গতকাল রাত পৌনে ১ টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে সিংগাইর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, র‌্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর সহযোগীতায় রুবেল হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং গত ২০ বছর যাবৎ পলাতক আসামী ওমর আলীকে গতকাল রাত পৌনে ১ টার দিকে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভার উপজেলা বলিয়ারপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও পৃথক মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত অপর আসামী উপজেলার মধ্য চারিগ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. ফজলুল হককেও গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশের একটি আভিযানিক টিম। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৩
২৭৮ বার পড়া হয়েছে

২০ বছর পালিয়ে থেকেওে শেষ রক্ষা হলোনা রুবেল হত্যা আসামী ওমর আলীর

আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৩

২০ বছর পালিয়ে থেকেওে শেষ রক্ষা হলোনা রুবেল হত্যা মামলার পলাতক আসামী ওমর আলীর। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত রুবেল হত্যা মামলার দীর্ঘ ২০ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে থাকা পলাতক ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ওমর আলীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেফতার ওমর আলী উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামের মৃত মো. সোলেমানের ছেলে।
রবিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার এম আরিফ হোসেন। এর আগে গতকাল রাতে তাকে ঢাকার সাভার উপজেলা বলিয়ারপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, ওমর আলী ও ভিকটিম রুবেল একই এলাকায় বসবাস করতেন। ভিকটিম রুবেলের বাবা সামছুল হকের সাথে আগে থেকেই জমি-জমা নিয়ে ওমর আলীর বিরোধ ছিল। ২০০১ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে জমির চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ভিকটিম রুবেল ও ভিকটিমের বাবা সামছুল হকের সাথে ওমর আলীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ বিরোধের জের ধরে ২০০১ সালের ২৬ এপ্রিল রুবেলকে রওশন আলীর মাঠে একা পেয়ে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ওমর আলী ও তার সহযোগী ইব্রাহিম, রাজ্জাক, হানিফসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম রুবেলকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ওই মাঠের দক্ষিণ পাশের নালায় বস্তায় বেধে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
ভিকটিমের বাবা সামছুল হক তার ছেলেকে কোথায় খুঁজে না পেয়ে সিংগাইর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। ভিকটিমের বাবা জানতে পারে যে, সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের গাজিন্দা গ্রামে রওশন আলীর মাঠের দক্ষিণ পাশের নালার মধ্যে বস্তা ভর্তি একটি লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সামছুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে উক্ত লাশটি তার ছেলে রুবেলের বলে সনাক্ত করে। স্থানীয়রা সিংগাইর থানা পুলিশকে খবর দিলে লাশটি নালা থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদও হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
ভিকটিমের বাবা সামছুল হক বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় ওমর আলী ও তার সহযোগী ইব্রাহিম, রাজ্জাক, হানিফসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামী ওমর আলী ও তার সহযোগী হত্যাকারী ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফকে সিংগাইর থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা ১৭ মাস কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পায়। আসামী ওমর আলী জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর আলী, ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফদেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে চার্জশীটের ভিত্তিতে আদালত মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং পর্যাপ্ত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ভিকটিম রুবেল হত্যাকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ চার্জশীটে অভিযুক্ত আসামী ওমর আলীকে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেন এবং অপর আসামী ইব্রাহিম, রাজ্জাক এবং হানিফকে মামলা থেকে খালাশ প্রদান করেন।
লে. কমান্ডার এম আরিফ হোসেন জানান, পলাতক আসামী ওমর আলী মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে গত ২০ বছর যাবৎ পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় গ্রেপ্তার এড়ানোর লক্ষ্যে ওমর আলী এলাকা থেকে পালিয়ে ঢাকার সাভার এলাকায় চলে আসে। গত ২০ বছর ধরে আসামী ওমর আলী ঢাকা জেলার আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে আত্মগোপনে থেকে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। গতকাল রাত পৌনে ১ টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে সিংগাইর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, র‌্যাব-৪, সিপিসি-৩ এর সহযোগীতায় রুবেল হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং গত ২০ বছর যাবৎ পলাতক আসামী ওমর আলীকে গতকাল রাত পৌনে ১ টার দিকে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভার উপজেলা বলিয়ারপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও পৃথক মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত অপর আসামী উপজেলার মধ্য চারিগ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. ফজলুল হককেও গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশের একটি আভিযানিক টিম। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।