ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সুস্থতা-পরবর্তী জটিলতা: সারা দেশে পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক স্থাপন জরুরি

নিজস্ব সংবাদ :

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর দেশবাসীর সামনে নেই। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। রাজধানী ছাড়িয়ে এর প্রকোপ দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালে রোগীদের ভিড় আর ল্যাবগুলোয় পরীক্ষার জন্য উপসর্গ নিয়ে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত রোববার দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেদিন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৩১ জন, যা একদিনে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৭। অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার বিস্তার ঘটে বিধায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এখনই তা বলা মুশকিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বছরজুড়েই থাকবে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেককে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে দেখা যাচ্ছে। এমনিতে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের জটিলতা তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কোমরবিডিটি তথা দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্তদের জটিলতা বর্তমানে বেশি দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগাক্রান্তদের একটি গ্রুপের ‘এক্সপান্ডেন্ট ডেঙ্গু সিনড্রোম’ হচ্ছে। সাধারণত তাদের জ্বর ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভাইরাল অ্যাটাকের ইতিহাস থাকে। এটি এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মৃত্যুহারও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সপান্ডেন্ট ডেঙ্গু সিনড্রোম রোগীদের হার্ট, নার্ভ সিস্টেম, অন্ড্রো, অগ্নাশয়ে ভাইরাল অ্যাটাক করে। এ ধরনের জটিলতায় রোগীর রেসিডিউয়াল সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ডেঙ্গু থেকে ব্রেন ইনফেকশন বা প্যারালাইসিস হলে পরে দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ট্রিটমেন্ট লাগে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অথবা ইনফেকশাস ডিজিজ স্পেশালিস্টের ফলোআপে তাদের থাকতে হয়, যে সেবা পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক দিতে পারে। এমন অবস্থায় বড় হাসপাতালগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, হাসপাতালগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক না থাকায় এ ধরনের রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আশার কথা, ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে এডিস মশাবাহিত এ ভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রমের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু-পরবর্তী জটিলতায় ভোগা রোগীদের জন্য রাজধানীসহ অন্তত জেলা শহরগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করি আমরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩
৯৩ বার পড়া হয়েছে

সুস্থতা-পরবর্তী জটিলতা: সারা দেশে পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক স্থাপন জরুরি

আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুখবর দেশবাসীর সামনে নেই। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। রাজধানী ছাড়িয়ে এর প্রকোপ দেশের অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালে রোগীদের ভিড় আর ল্যাবগুলোয় পরীক্ষার জন্য উপসর্গ নিয়ে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত রোববার দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেদিন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭৩১ জন, যা একদিনে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৭। অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার বিস্তার ঘটে বিধায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এখনই তা বলা মুশকিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বছরজুড়েই থাকবে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেককে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে দেখা যাচ্ছে। এমনিতে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের জটিলতা তুলনামূলক কম হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কোমরবিডিটি তথা দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্তদের জটিলতা বর্তমানে বেশি দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগাক্রান্তদের একটি গ্রুপের ‘এক্সপান্ডেন্ট ডেঙ্গু সিনড্রোম’ হচ্ছে। সাধারণত তাদের জ্বর ছাড়াও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভাইরাল অ্যাটাকের ইতিহাস থাকে। এটি এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মৃত্যুহারও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সপান্ডেন্ট ডেঙ্গু সিনড্রোম রোগীদের হার্ট, নার্ভ সিস্টেম, অন্ড্রো, অগ্নাশয়ে ভাইরাল অ্যাটাক করে। এ ধরনের জটিলতায় রোগীর রেসিডিউয়াল সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ডেঙ্গু থেকে ব্রেন ইনফেকশন বা প্যারালাইসিস হলে পরে দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ট্রিটমেন্ট লাগে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অথবা ইনফেকশাস ডিজিজ স্পেশালিস্টের ফলোআপে তাদের থাকতে হয়, যে সেবা পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক দিতে পারে। এমন অবস্থায় বড় হাসপাতালগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, হাসপাতালগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক না থাকায় এ ধরনের রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আশার কথা, ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে এডিস মশাবাহিত এ ভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রমের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু-পরবর্তী জটিলতায় ভোগা রোগীদের জন্য রাজধানীসহ অন্তত জেলা শহরগুলোয় পোস্ট ডেঙ্গু ক্লিনিক স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করি আমরা।