ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফাঁদে পড়ে সর্বহারা একাধিক মেয়ে

সাংবাদিক পরিচয়ে মেয়েদের সাথে প্রতারণাই ছিলো মুনতাসীরের নেশা

আয়েশা আক্তার

পেশায় ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জে ইউনিভার্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শুরু হয় মুনতাসীরের প্রতারণা।  চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার মৃত আব্দুস সালামের পুত্র শ্যাম মুনতাসীর (৩৬) নামের এক নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নারী প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মুনতাসীর দোহাজারী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড হাফসরিকুল এলাকার…. ছেলে। দোহাজারী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া সাংবাদিক কার্ড বানিয়ে

এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ বেশ দাপট দেখিয়ে চলছে। সেই সংগে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক পরিচয় ও দেন তিনি, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠাতার সাথে কথা বলে জানা যায়, মুনতাসীর কোন কার্যক্রমের সাথে নেই।আরো
জানা যায়, মুনতাসীর তার প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ার এক স্বনামধন্য ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নেয়,পরবর্তীতে স্কুল দেউলিয়া ঘোষণা করে নারায়নগঞ্জ ত্যাগ করেন, এরপর নিজেকে মিডিয়া জগতের ইনভেস্টার হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন প্রলোভনের জাল বিছিয়ে ফাঁদে ফেলতেন মেয়েদেরকে। তার পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে একাধিক নারী হয়েছেন প্রতারণার শিকার। সিনেমা নাটকে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলা সাংবাদিকদের সাথে মুনতাসীরের গড়ে উঠে বেশ সখ্যতা। এক সময় মেয়েটির সাথে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক।  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং সিনেমার নাম দিয়ে তৈরি করা হতো ফেইজবুকে লাইফ, এবং ফেইসবুক একাউন্ট মুনতাসীর নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতো, এবং বাসায় অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে জানান যদি পরিবার থেকে মোটা অংকের টাকা না এনে দেই, হয় টাকা এনে দে, না হয় ফেইজবুকে লাইভ করে দে ব্ল্যাকমেইল এভাবে চলতে থাকে অপরদিকে মুনতাসীর থেমে থাকেনি যখন মেয়েটি গর্ভ ধারন করেন, তখন সে আরো ভয়ানক ভাবে মেয়েটিকে অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতেন ।  এক পর্যায়ে মেয়েটির গর্ভের সন্তান অবস্থায় ব্লেডিং শুরু হয় । মুনতাসীর মেয়েটিকে এভর্শন করানোর জন্য জোরজবরদস্তি করে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টারে নিয়ে যায়,ডাক্তার সাহেরা বেগম বলেন, যদি বাচ্চা ফেলে দেওয়া হয় তাহলে মা মারা যাবে কারন বাচ্চার অনেকটা সময় তখন পার হয়ে গেছিলো । এই ভয়ে বিয়ে ছাড়াই মেয়েটি জন্ম দেন মুনতাসীরের কন্যা সন্তান। পরে বিয়ের কথা বললে মুনতাসীর মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে পৈচাশিক নির্যাতন করে এবং সন্তানটির বাবা পরিচয় অস্বীকার করে। মেয়েটির পরিবার যখন এসব জানতে পারে,এবং তাকে মুনতাসীরের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে । পরে অন্যত্র মেয়েটিকে বিয়ে দেন। মুনতাসীরের কন্যা সন্তানটি মায়ের কাছে পরম আদর যত্নে বেড়ে উঠছিল। কন্যা সন্তানটির বয়স যখন ৪বছর তখন তার নানা কিছু জায়গা কন্যা সন্তানটির নামে লিখে দেয়। এ কথা জানার পর পিতার পরিচয় অস্বীকার করা মুনতাসীর হঠাৎ বাবার পরিচয় দিয়ে হাজির হয়। এবং কন্যা সন্তানটিকে কৌশলে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে মায়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এদিকে ঐ নারী সাংবাদিক অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর পর কদমতলী থানায় হাজির হয়ে একটা জিডি করেন, জিডি নং ৩৭৬,তারিখ ৬/৩/২০২৪ইং অফিসার ইনর্চাজ সাহেব ডিজি হাওলা করেন, এবং সত্যতা যাচাই করে কোর্টে সাবমিট করেন, নারী সাংবাদিক এর কোন কাবিন নামা না থাকায় কোর্ট থানায় মামলা নেওয়ার আদেশ লিখে দেন। পরে দোহাজারী প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছির উদ্দিন বাবলু কে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি প্রথমে সহযোগীতা করবে বললে ও পরবর্তীতে তার সাথে হাত মিলিয়ে, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিষয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে মুনতাসীরের আফসানা নামে আরো একটি বউ ছিলো এবং সেই ঘরে নৌমি নামে  ৮ বছরের একটি মেয়ে সন্তানও আছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মুনতাসীরের বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রতারণার কথা জানার পর এসব জানতে চাইলে আফসানাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। একসময় আফসানা এসব সইতে না পেরে তালাক দিয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার পর এখনো পর্যন্ত মুনতাসীর তার মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেননি বলে জানা যায়।

এদিকে দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মো:মাসুদ সাহেব এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২বছর আগে ৬ মাসের জন্য মুনতাসীরকে চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর তার কার্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সে হয়তো কার্ডের মেয়াদ জালিয়াতি করে বাড়িয়ে কাজ করছে। তবে বর্তমানে সে আমাদের পত্রিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৮:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪
৭৯ বার পড়া হয়েছে

ফাঁদে পড়ে সর্বহারা একাধিক মেয়ে

সাংবাদিক পরিচয়ে মেয়েদের সাথে প্রতারণাই ছিলো মুনতাসীরের নেশা

আপডেট সময় ০৮:৫৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০২৪

পেশায় ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জে ইউনিভার্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শুরু হয় মুনতাসীরের প্রতারণা।  চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার মৃত আব্দুস সালামের পুত্র শ্যাম মুনতাসীর (৩৬) নামের এক নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নারী প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মুনতাসীর দোহাজারী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড হাফসরিকুল এলাকার…. ছেলে। দোহাজারী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া সাংবাদিক কার্ড বানিয়ে

এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ বেশ দাপট দেখিয়ে চলছে। সেই সংগে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক পরিচয় ও দেন তিনি, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার প্রতিষ্ঠাতার সাথে কথা বলে জানা যায়, মুনতাসীর কোন কার্যক্রমের সাথে নেই।আরো
জানা যায়, মুনতাসীর তার প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়ার এক স্বনামধন্য ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নেয়,পরবর্তীতে স্কুল দেউলিয়া ঘোষণা করে নারায়নগঞ্জ ত্যাগ করেন, এরপর নিজেকে মিডিয়া জগতের ইনভেস্টার হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন প্রলোভনের জাল বিছিয়ে ফাঁদে ফেলতেন মেয়েদেরকে। তার পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে একাধিক নারী হয়েছেন প্রতারণার শিকার। সিনেমা নাটকে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলা সাংবাদিকদের সাথে মুনতাসীরের গড়ে উঠে বেশ সখ্যতা। এক সময় মেয়েটির সাথে তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক।  বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং সিনেমার নাম দিয়ে তৈরি করা হতো ফেইজবুকে লাইফ, এবং ফেইসবুক একাউন্ট মুনতাসীর নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতো, এবং বাসায় অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে জানান যদি পরিবার থেকে মোটা অংকের টাকা না এনে দেই, হয় টাকা এনে দে, না হয় ফেইজবুকে লাইভ করে দে ব্ল্যাকমেইল এভাবে চলতে থাকে অপরদিকে মুনতাসীর থেমে থাকেনি যখন মেয়েটি গর্ভ ধারন করেন, তখন সে আরো ভয়ানক ভাবে মেয়েটিকে অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করতেন ।  এক পর্যায়ে মেয়েটির গর্ভের সন্তান অবস্থায় ব্লেডিং শুরু হয় । মুনতাসীর মেয়েটিকে এভর্শন করানোর জন্য জোরজবরদস্তি করে মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টারে নিয়ে যায়,ডাক্তার সাহেরা বেগম বলেন, যদি বাচ্চা ফেলে দেওয়া হয় তাহলে মা মারা যাবে কারন বাচ্চার অনেকটা সময় তখন পার হয়ে গেছিলো । এই ভয়ে বিয়ে ছাড়াই মেয়েটি জন্ম দেন মুনতাসীরের কন্যা সন্তান। পরে বিয়ের কথা বললে মুনতাসীর মেয়েটিকে বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে পৈচাশিক নির্যাতন করে এবং সন্তানটির বাবা পরিচয় অস্বীকার করে। মেয়েটির পরিবার যখন এসব জানতে পারে,এবং তাকে মুনতাসীরের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে । পরে অন্যত্র মেয়েটিকে বিয়ে দেন। মুনতাসীরের কন্যা সন্তানটি মায়ের কাছে পরম আদর যত্নে বেড়ে উঠছিল। কন্যা সন্তানটির বয়স যখন ৪বছর তখন তার নানা কিছু জায়গা কন্যা সন্তানটির নামে লিখে দেয়। এ কথা জানার পর পিতার পরিচয় অস্বীকার করা মুনতাসীর হঠাৎ বাবার পরিচয় দিয়ে হাজির হয়। এবং কন্যা সন্তানটিকে কৌশলে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে মায়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এদিকে ঐ নারী সাংবাদিক অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এর পর কদমতলী থানায় হাজির হয়ে একটা জিডি করেন, জিডি নং ৩৭৬,তারিখ ৬/৩/২০২৪ইং অফিসার ইনর্চাজ সাহেব ডিজি হাওলা করেন, এবং সত্যতা যাচাই করে কোর্টে সাবমিট করেন, নারী সাংবাদিক এর কোন কাবিন নামা না থাকায় কোর্ট থানায় মামলা নেওয়ার আদেশ লিখে দেন। পরে দোহাজারী প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছির উদ্দিন বাবলু কে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি প্রথমে সহযোগীতা করবে বললে ও পরবর্তীতে তার সাথে হাত মিলিয়ে, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিষয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে মুনতাসীরের আফসানা নামে আরো একটি বউ ছিলো এবং সেই ঘরে নৌমি নামে  ৮ বছরের একটি মেয়ে সন্তানও আছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মুনতাসীরের বিভিন্ন মেয়েদের সাথে প্রতারণার কথা জানার পর এসব জানতে চাইলে আফসানাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। একসময় আফসানা এসব সইতে না পেরে তালাক দিয়ে চলে যায়। চলে যাওয়ার পর এখনো পর্যন্ত মুনতাসীর তার মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেননি বলে জানা যায়।

এদিকে দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মো:মাসুদ সাহেব এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২বছর আগে ৬ মাসের জন্য মুনতাসীরকে চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপর তার কার্ডের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সে হয়তো কার্ডের মেয়াদ জালিয়াতি করে বাড়িয়ে কাজ করছে। তবে বর্তমানে সে আমাদের পত্রিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নন।