ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংকটে ধুঁকছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুর মহানগরী ও আশপাশের এলাকাকে আধুনিক, সুপরিকল্পিত শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২১ সালে জন্ম হয় গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)। টঙ্গী-পুবাইল, গাছা-জয়দেবপুর, কাউলতিয়া-বাসন ও কোনাবাড়ী-কাশিমপুর এলাকা নিয়ে গঠিত হয় সংস্থাটি। এত দিন এসব এলাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ছিল। কিন্তু গাউক নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকা নির্ধারণ, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, জনবল কাঠামো, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালার কিছুই তৈরি করতে পারেনি। এসব কিছু না হওয়ায় তেমন কোনো কার্যক্রম করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সংকটে ধুঁকছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্রমবিকাশমান গাজীপুর নগরীকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত, শিল্প ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন এ সংস্থা গঠিত হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আদলে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬’-এর মাধ্যমে গাউক গঠন করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা টঙ্গী এলাকা গাউকের অধীনে চলে যাবে। এ ছাড়া নতুন এই কর্তৃপক্ষ শুধু গাজীপুর মহানগর এলাকা নিয়ে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্তৃপক্ষের বিস্তৃতি পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, গুরুত্ব অনুযায়ী পাশের জেলার কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজন সদস্য থাকবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন। নবগঠিত এ কর্তৃপক্ষ তার ক্ষমতা ও কার্যাবলির মধ্যে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক-মহাসড়ক, নৌপথ ও রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন কর্তৃপক্ষ গঠন করে সরকার। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত অঞ্চল হচ্ছে রাজধানীঘেঁষা তুরাগ নদের উত্তর পাশে ৩২৯.৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা। নাগরিকদের উত্তম সেবাদানের লক্ষ্যে অধিক্ষেত্রকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আটটি জোনের মধ্যে প্রতি দুটি জোন নিয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি জোন করা হয়েছে। এগুলো হলো- জোন-১ (টঙ্গী-পুবাইল), জোন-২ (গাছা-জয়দেবপুর), জোন-৩ (কাউলতিয়া-বাসন) ও জোন-৪ (কোনাবাড়ী-কাশিমপুর)। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। এখনো স্থায়ী কার্যালয়ও তৈরি হয়নি। অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির জনবল কাঠামো তৈরি না হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কয়েকজন জনবল দিয়ে সীমিত আকারে চলছে কার্যক্রম। অর্গানোগ্রাম না হওয়ায় জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি সংস্থাটি। একই সঙ্গে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানা নির্ধারণ হয়নি। আপাতত গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও ড্যাপ নির্ধারিত এলাকা নিয়ে কাজ করবে সংস্থাটি। সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালার কিছুই করতে পারেনি। শুধু জুন মাসের ৪ তারিখ চেয়ারম্যান হিসেবে গাজীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর ৬ জুন সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন তিনি। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন আজমত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাউক চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এলাকা নির্ধারণ, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, জনবল কাঠামো, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালা তৈরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জনবল কাঠামোর একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আমাদের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এখন আমরা সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

এলাকা নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ড্যাপে তো সীমানা রয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। করপোরেশন কোনো মহাপরিকল্পনা নিয়েছে কি না। তবে এখনো পর্যন্ত জবাব পাইনি।’ আজমত উল্লা বলেন, ‘ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, প্ল্যান পাস সীমিত আকারে করছি। একই সঙ্গে নকশা অনুযায়ী যেন ভবন নির্মিত হয় সেটি তদারকি হচ্ছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩
৯৫ বার পড়া হয়েছে

সংকটে ধুঁকছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০৩:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

গাজীপুর মহানগরী ও আশপাশের এলাকাকে আধুনিক, সুপরিকল্পিত শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২১ সালে জন্ম হয় গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)। টঙ্গী-পুবাইল, গাছা-জয়দেবপুর, কাউলতিয়া-বাসন ও কোনাবাড়ী-কাশিমপুর এলাকা নিয়ে গঠিত হয় সংস্থাটি। এত দিন এসব এলাকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ছিল। কিন্তু গাউক নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এলাকা নির্ধারণ, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, জনবল কাঠামো, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালার কিছুই তৈরি করতে পারেনি। এসব কিছু না হওয়ায় তেমন কোনো কার্যক্রম করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সংকটে ধুঁকছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্রমবিকাশমান গাজীপুর নগরীকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত, শিল্প ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন পাস হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নতুন এ সংস্থা গঠিত হয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আদলে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬’-এর মাধ্যমে গাউক গঠন করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা টঙ্গী এলাকা গাউকের অধীনে চলে যাবে। এ ছাড়া নতুন এই কর্তৃপক্ষ শুধু গাজীপুর মহানগর এলাকা নিয়ে কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্তৃপক্ষের বিস্তৃতি পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, গুরুত্ব অনুযায়ী পাশের জেলার কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছাড়াও তিনজন সদস্য থাকবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন। নবগঠিত এ কর্তৃপক্ষ তার ক্ষমতা ও কার্যাবলির মধ্যে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক-মহাসড়ক, নৌপথ ও রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এমন কর্তৃপক্ষ গঠন করে সরকার। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত অঞ্চল হচ্ছে রাজধানীঘেঁষা তুরাগ নদের উত্তর পাশে ৩২৯.৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা। নাগরিকদের উত্তম সেবাদানের লক্ষ্যে অধিক্ষেত্রকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আটটি জোনের মধ্যে প্রতি দুটি জোন নিয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি জোন করা হয়েছে। এগুলো হলো- জোন-১ (টঙ্গী-পুবাইল), জোন-২ (গাছা-জয়দেবপুর), জোন-৩ (কাউলতিয়া-বাসন) ও জোন-৪ (কোনাবাড়ী-কাশিমপুর)। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। এখনো স্থায়ী কার্যালয়ও তৈরি হয়নি। অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটির জনবল কাঠামো তৈরি না হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কয়েকজন জনবল দিয়ে সীমিত আকারে চলছে কার্যক্রম। অর্গানোগ্রাম না হওয়ায় জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি সংস্থাটি। একই সঙ্গে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সীমানা নির্ধারণ হয়নি। আপাতত গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও ড্যাপ নির্ধারিত এলাকা নিয়ে কাজ করবে সংস্থাটি। সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালার কিছুই করতে পারেনি। শুধু জুন মাসের ৪ তারিখ চেয়ারম্যান হিসেবে গাজীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর ৬ জুন সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন তিনি। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন আজমত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাউক চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এলাকা নির্ধারণ, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, জনবল কাঠামো, নিয়োগবিধি ও প্রবিধানমালা তৈরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জনবল কাঠামোর একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আমাদের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। এখন আমরা সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

এলাকা নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ড্যাপে তো সীমানা রয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছি। করপোরেশন কোনো মহাপরিকল্পনা নিয়েছে কি না। তবে এখনো পর্যন্ত জবাব পাইনি।’ আজমত উল্লা বলেন, ‘ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নকশা অনুমোদন, প্ল্যান পাস সীমিত আকারে করছি। একই সঙ্গে নকশা অনুযায়ী যেন ভবন নির্মিত হয় সেটি তদারকি হচ্ছে।’