ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী খুনের নেপথ্যে চাঁদাবাজি আধিপত্য বিস্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় আধিপত্য ধরে রাখা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার (মাহেন্দ্র, ফুটপাত) নিয়ন্ত্রণ।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য নাবিল খান এবং দারুসসালাম থানার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইসলামের পক্ষের নেতাকর্মীরা মিরপুর ১ নম্বর মাজার রোড, দারুসসালাম, বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৫ দিনে তিনটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দারুসসালাম সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ের (বর্ধনবাড়ী) সামনে ইসলাম ও নাবিল খান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শাহ আলম (৩৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নিহত হন। তিনি নাবিলের ক্যাশিয়ার ও ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় রোববার দারুসসালাম থানায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সৈয়দ আলী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শান্ত, শেখ সুমন, লিমন, শাওন, আফজাল হোসেন গোলাপ, এনামুল করিম খোকন, আফজাল ওরফে পাকিস্তানি আফজাল, শরিফুল ইসলাম রিজভী, জাহাঙ্গীর শেখ, রাসেল, দিপংকর, মো. রাজু, ইমরান হোসেন এবং অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জন। তবে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহ আলম মিরপুর ১ নম্বরের একটি মার্কেটের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন। শনিবার রাতে বাসায় ফেরার পথে দারুসসালামের লালকুঠি বর্ধনবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ইসলামসহ অন্য আসামিরা তাকে মাটিতে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। তার বাম ঊরুতে পাঁচটি ও ডান ঊরুতে একটি কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় শাহ আলমের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মফিজুর রহমান পলাশ যুগান্তরকে বলেন, আমরা আসামি গ্রেফতারে তৎপর রয়েছি। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার করতে পারিনি।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাইনি। দূরে যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো অস্পষ্ট।

নিহত শাহ আলমের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাবিল গ্রুপ ও ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। শাহ আলম নাবিলের অনুসারী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসলাম একসময় ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য আসলামুল হকের ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন। করোনার সময় সংসদ-সদস্য আসলাম মারা গেলে ঢাকা-১৪ আসনে আগা খান মিন্টু সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য ধরে রাখতে ইসলাম বর্তমান এমপি আগা খান মিন্টুর ছায়াতলে যান।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাবিল খান সাবেক সংসদ-সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) সাবিনা আক্তার তুহিনের অনুসারী। তুহিনের ছোট বোনের স্বামী নাবিল খান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০১:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩
৬৭ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী খুনের নেপথ্যে চাঁদাবাজি আধিপত্য বিস্তার

আপডেট সময় ০১:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় আধিপত্য ধরে রাখা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার (মাহেন্দ্র, ফুটপাত) নিয়ন্ত্রণ।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য নাবিল খান এবং দারুসসালাম থানার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইসলামের পক্ষের নেতাকর্মীরা মিরপুর ১ নম্বর মাজার রোড, দারুসসালাম, বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৫ দিনে তিনটি সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দারুসসালাম সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ের (বর্ধনবাড়ী) সামনে ইসলাম ও নাবিল খান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শাহ আলম (৩৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নিহত হন। তিনি নাবিলের ক্যাশিয়ার ও ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন তিনি।

এ ঘটনায় রোববার দারুসসালাম থানায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সৈয়দ আলী।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শান্ত, শেখ সুমন, লিমন, শাওন, আফজাল হোসেন গোলাপ, এনামুল করিম খোকন, আফজাল ওরফে পাকিস্তানি আফজাল, শরিফুল ইসলাম রিজভী, জাহাঙ্গীর শেখ, রাসেল, দিপংকর, মো. রাজু, ইমরান হোসেন এবং অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জন। তবে পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহ আলম মিরপুর ১ নম্বরের একটি মার্কেটের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন। শনিবার রাতে বাসায় ফেরার পথে দারুসসালামের লালকুঠি বর্ধনবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ইসলামসহ অন্য আসামিরা তাকে মাটিতে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। তার বাম ঊরুতে পাঁচটি ও ডান ঊরুতে একটি কোপ দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় শাহ আলমের।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মফিজুর রহমান পলাশ যুগান্তরকে বলেন, আমরা আসামি গ্রেফতারে তৎপর রয়েছি। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার করতে পারিনি।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যাইনি। দূরে যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো অস্পষ্ট।

নিহত শাহ আলমের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাবিল গ্রুপ ও ইসলাম গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। শাহ আলম নাবিলের অনুসারী।

স্থানীয় সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসলাম একসময় ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য আসলামুল হকের ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন। করোনার সময় সংসদ-সদস্য আসলাম মারা গেলে ঢাকা-১৪ আসনে আগা খান মিন্টু সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়ভাবে আধিপত্য ধরে রাখতে ইসলাম বর্তমান এমপি আগা খান মিন্টুর ছায়াতলে যান।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাবিল খান সাবেক সংসদ-সদস্য (সংরক্ষিত মহিলা আসন) সাবিনা আক্তার তুহিনের অনুসারী। তুহিনের ছোট বোনের স্বামী নাবিল খান।