ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মামলার বাদীকে ম্যানেজ করতে সিলভার ফারুকের কোটি টাকার মিশন

আকতার হোসেন সাদ্দামঃ

কুমিল্লার কুখ্যাত ভূমিদস্যু সিলভার ফারুকের অপকর্ম একের পর এক আমাদের হাতে এসে পৌঁছছে। জবরদখল প্রতিপক্ষকে গায়েল করতে সন্ত্রাসী বাহিনী সর্বশেষ ডাঃ জহির হত্যা!
কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্সে নিজ বাসায় হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক হত্যা মামলার মূল আসামী সালাউদ্দিন মোর্শেদ ভূঁইয়া পাপ্পুর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে ঘটনার দিন পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়। এনিয়ে ডা. জহির হত্যা মামলার ৫ আসামীর মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্সে শাপলা টাওয়ারে ডা. জহিরুল হকের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টায় ঢাকায় ইউনাইটেড হসপিটালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ৫ জনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী ফারহান আফরিন হিমি।

ডা. জহিরের ওপর হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা মামলার ৫ নম্বর আসামি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গোল্ড সিলভার হোমস ও সিলভার ডেভেলপারসের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ ওরফে সিলভার ফারুক মামলার বাদী ফারহান আফরিন হিমি’কে মামলা থেকে সিলভার ফারুককে বাদ দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছেন। কোটি টাকার মিশনে নেমেছে সিলভার ফারুকের পেটুয়া বাহিনী। মামলার বাদীকে ম্যানেজ করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে সিলভার ফারুক ও তার বাহিনী। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

আমাদের প্রতিবেদকের বক্তব্যনুযায়ীঃ- ২০১১ সালের সমবায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ধস নামে তখনি ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের একপ্রকার জিম্মি করে ১০ টাকার মাল ১টাকায় ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নেয় এই সিলভার ফারুক।

কোন কলেজে অধ্যাপনা না করেই নামের পাশে অধ্যাপক লাগিয়ে মহাপ্রতারণা চালাচ্ছে এই প্রতারক।
কুমিল্লা টাউনহলের উল্টো পাশে সিলভার ফারুকের বহুতল ভবনের একটি কমার্সিয়াল স্পেস ইতিমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বিক্রি করে। যা দিয়ে কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টায় আছেন।
দীর্ঘ ১ যুগের বেশি সময় কুমিল্লায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আবাসিক ভবন ও কর্মাশিয়াল স্পেস বিক্রয়ের নামে প্রতারণা করছে এই ধুরন্ধর প্রতারক।
এ নিয়ে বেশ কিছু মামলা মোকদ্দমা হলেও কালো টাকার কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ভুক্তভোগীরা। একটি ফ্ল্যাট কয়েকবার বিক্রির অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত বছর এক ফ্ল্যাট আরেক জনের কাছে বিক্রির অভিযোগে মামলা হয়েছিল ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলভার মুন থেকে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন ঝাউতলার হামিদা বেগম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ২৫১/৮ সিলভার মুন থেকে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন হামিদা বেগম এরপর ঐ ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন তিনি। ১বছর পর বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স আসে অন্য ব্যক্তির নামে। বিষয়টি নগর ভবনকে জানানোর পর তিনি জানতে পারেন এই ফ্ল্যাটের মালিক অন্য একজন।
এ নিয়ে আদালতের সরণাপন্ন হন হামিদা বেগম। হামিদা বেগমের আইনজীবি জানান- নকশা বহির্ভূত ভবন তৈরি ও ফ্ল্যাটের ক্রেতার সাথে প্রতারণা মামলায় গত বছর ২১জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত এই প্রতারক রাতারাতি বোল পাল্টে আ’লীগার হয়ে যায়। অশোকতলায় অন্যের জায়গা দখল করে রাস্তা বানিয়ে আলিশান বাড়ি বানিয়েছে এই প্রতারক।
ঈঁসরষষধ ুড়ঁঃয ফবাবষড়ঢ়সবহঃ এর নামে সৌদিআরব, দুবাই, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে বেকারত্ব নিরসনের নামে কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে। মাদরাসা, এতিমখানার নামেও চাঁদাবাজি করতে তার বুক কাপেনি।
কুমিল্লায় একচেটিয়ে আবাসন ব্যবসার অন্তরালে সিলভার ফারুকের প্রতারণা নিয়ে বিস্তারিত আসছে…..

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০২৩
৩১০ বার পড়া হয়েছে

মামলার বাদীকে ম্যানেজ করতে সিলভার ফারুকের কোটি টাকার মিশন

আপডেট সময় ০৪:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০২৩

কুমিল্লার কুখ্যাত ভূমিদস্যু সিলভার ফারুকের অপকর্ম একের পর এক আমাদের হাতে এসে পৌঁছছে। জবরদখল প্রতিপক্ষকে গায়েল করতে সন্ত্রাসী বাহিনী সর্বশেষ ডাঃ জহির হত্যা!
কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্সে নিজ বাসায় হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক হত্যা মামলার মূল আসামী সালাউদ্দিন মোর্শেদ ভূঁইয়া পাপ্পুর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে ঘটনার দিন পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়। এনিয়ে ডা. জহির হত্যা মামলার ৫ আসামীর মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্সে শাপলা টাওয়ারে ডা. জহিরুল হকের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টায় ঢাকায় ইউনাইটেড হসপিটালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ৫ জনের নামে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী ফারহান আফরিন হিমি।

ডা. জহিরের ওপর হামলার ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করা মামলার ৫ নম্বর আসামি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গোল্ড সিলভার হোমস ও সিলভার ডেভেলপারসের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ ওরফে সিলভার ফারুক মামলার বাদী ফারহান আফরিন হিমি’কে মামলা থেকে সিলভার ফারুককে বাদ দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছেন। কোটি টাকার মিশনে নেমেছে সিলভার ফারুকের পেটুয়া বাহিনী। মামলার বাদীকে ম্যানেজ করার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে সিলভার ফারুক ও তার বাহিনী। এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’

আমাদের প্রতিবেদকের বক্তব্যনুযায়ীঃ- ২০১১ সালের সমবায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ধস নামে তখনি ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের একপ্রকার জিম্মি করে ১০ টাকার মাল ১টাকায় ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নেয় এই সিলভার ফারুক।

কোন কলেজে অধ্যাপনা না করেই নামের পাশে অধ্যাপক লাগিয়ে মহাপ্রতারণা চালাচ্ছে এই প্রতারক।
কুমিল্লা টাউনহলের উল্টো পাশে সিলভার ফারুকের বহুতল ভবনের একটি কমার্সিয়াল স্পেস ইতিমধ্যে ৪০ কোটি টাকা বিক্রি করে। যা দিয়ে কুমিল্লার একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টায় আছেন।
দীর্ঘ ১ যুগের বেশি সময় কুমিল্লায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আবাসিক ভবন ও কর্মাশিয়াল স্পেস বিক্রয়ের নামে প্রতারণা করছে এই ধুরন্ধর প্রতারক।
এ নিয়ে বেশ কিছু মামলা মোকদ্দমা হলেও কালো টাকার কাছে অসহায় হয়ে পড়ে ভুক্তভোগীরা। একটি ফ্ল্যাট কয়েকবার বিক্রির অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত বছর এক ফ্ল্যাট আরেক জনের কাছে বিক্রির অভিযোগে মামলা হয়েছিল ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলভার মুন থেকে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন ঝাউতলার হামিদা বেগম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ২৫১/৮ সিলভার মুন থেকে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন হামিদা বেগম এরপর ঐ ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন তিনি। ১বছর পর বাসার হোল্ডিং ট্যাক্স আসে অন্য ব্যক্তির নামে। বিষয়টি নগর ভবনকে জানানোর পর তিনি জানতে পারেন এই ফ্ল্যাটের মালিক অন্য একজন।
এ নিয়ে আদালতের সরণাপন্ন হন হামিদা বেগম। হামিদা বেগমের আইনজীবি জানান- নকশা বহির্ভূত ভবন তৈরি ও ফ্ল্যাটের ক্রেতার সাথে প্রতারণা মামলায় গত বছর ২১জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত এই প্রতারক রাতারাতি বোল পাল্টে আ’লীগার হয়ে যায়। অশোকতলায় অন্যের জায়গা দখল করে রাস্তা বানিয়ে আলিশান বাড়ি বানিয়েছে এই প্রতারক।
ঈঁসরষষধ ুড়ঁঃয ফবাবষড়ঢ়সবহঃ এর নামে সৌদিআরব, দুবাই, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে বেকারত্ব নিরসনের নামে কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে। মাদরাসা, এতিমখানার নামেও চাঁদাবাজি করতে তার বুক কাপেনি।
কুমিল্লায় একচেটিয়ে আবাসন ব্যবসার অন্তরালে সিলভার ফারুকের প্রতারণা নিয়ে বিস্তারিত আসছে…..