ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন কন্যা রিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন কন্যা সিমিন হোসেন রিমি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবারই প্রথম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাকে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে গাজীপুর-৪ আসনের উপনির্বাচনে সিমিন হোসেন রিমি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আবারও এই আসন থেকে ২য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের নভেম্বরে রিমিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ থেকে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমদ খান। এর পর ২০০১ ও ২০০৮ সালে এমপি হন তাজউদ্দীনপুত্র তানজীম আহমদ সোহেল তাজ।

পরে ২০১২ সালের উপনির্বাচন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এমপি হন তাজউদ্দীনকন্যা সিমিন হোসেন রিমি। বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য রিমি এবারও আওয়ামী লীগ থেকে পেয়েছিলেন নৌকা প্রতীক পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর তার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন রিমির ফুফাতো ভাই ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি আলম আহমেদ। রিমি নৌকা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৭২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলম আহমেদ ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫ ভোট। আলম আহমেদের থেকে রিমি ৪৫ হাজার ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সিমিন হোসেন রিমি ১৯৬১ সালের ১৯ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা জেলার গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের সন্তান। তার স্বামীর নাম মুশতাক হোসেন। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের বড় বোন।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া স্বতন্ত্রদের মধ্যে বিজয়ী হন ৬২ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১টি আসনে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেজেট প্রকাশের পরদিন ১০ জানুয়ারি (বুধবার) শপথ নেন নবনির্বাচিত এমপিরা। আর এমপিদের শপথ গ্রহণের একদিন পর বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়ে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪
৭০ বার পড়া হয়েছে

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন তাজউদ্দীন কন্যা রিমি

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৪

নতুন সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন কন্যা সিমিন হোসেন রিমি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবারই প্রথম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাকে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে গাজীপুর-৪ আসনের উপনির্বাচনে সিমিন হোসেন রিমি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এর পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আবারও এই আসন থেকে ২য় বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের নভেম্বরে রিমিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ থেকে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদের ছোট ভাই অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমদ খান। এর পর ২০০১ ও ২০০৮ সালে এমপি হন তাজউদ্দীনপুত্র তানজীম আহমদ সোহেল তাজ।

পরে ২০১২ সালের উপনির্বাচন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে এমপি হন তাজউদ্দীনকন্যা সিমিন হোসেন রিমি। বর্তমানে এই আসনের সংসদ সদস্য রিমি এবারও আওয়ামী লীগ থেকে পেয়েছিলেন নৌকা প্রতীক পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর তার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন রিমির ফুফাতো ভাই ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি আলম আহমেদ। রিমি নৌকা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৭২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলম আহমেদ ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫ ভোট। আলম আহমেদের থেকে রিমি ৪৫ হাজার ৬৮৪ ভোট বেশি পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সিমিন হোসেন রিমি ১৯৬১ সালের ১৯ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা জেলার গাজীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের সন্তান। তার স্বামীর নাম মুশতাক হোসেন। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের বড় বোন।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া স্বতন্ত্রদের মধ্যে বিজয়ী হন ৬২ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১টি আসনে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

গত ৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেজেট প্রকাশের পরদিন ১০ জানুয়ারি (বুধবার) শপথ নেন নবনির্বাচিত এমপিরা। আর এমপিদের শপথ গ্রহণের একদিন পর বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়ে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।