ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ মির্জাপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার:

গাজীপুর সদর উপজেলায় চা বিক্রেতা সেলিম মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মির্জাপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবদুল জাব্বারের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে দিকে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ভূমি অফিসের বিতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া জানান, আমি মির্জাপুর বাজারে চা বিক্রি করে আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করি। আমার দোকানটি ভূমি অফিসের সাথে হওয়ায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চা বিক্রি সহ স্যারদের সহযোগিতা করে থাকি। আজ দুপুরে ভূমি অফিসের নায়েব স্যার আমাকে বাইরে থেকে কিছু কাগজ এনে দিতে বলে। পরে কাগজগুলো স্যারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার স্যার এসব কাগজের বিষয়ে জানতে চায়। আমি লেখাপড়া জানি না। তাই এগুলো কীসের কাগজ বলতে পারি নাই। তাই আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে।স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেলিম মিয়া একজন সাধারণ চা বিক্রেতা লেখাপড়া জানে না। সকলে তাকে দিয়ে টুকিটাকি কাজকাম করায়। সরকারি একজন চাকরিজীবী ভূমি অফিসের ভিতরে একজন বয়স্ক মানুষকে এভাবে মারধর করাটা অন্যায় হয়েছে। সে কোনো অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা যেত।

মির্জাপুর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, আমি তাকে বাহির থেকে কয়েকটি স্টাম্প এনে দিতে বলেছিলাম। সরকারি কোনো কাগজপত্র তার হাতে দেওয়া হয়নি।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন -সেলিম মিয়া আমাদের ভূমি অফিসের কর্মচারী না। তার কাছে সরকারি কাগজপত্র দেখার পর জিজ্ঞেস করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
গাজীপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকসানা খাইরুন নেছা জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখে তারপর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইবরাহিম খলিল জানান, এ ঘটনায় আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দেখার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ১২:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪
৮২ বার পড়া হয়েছে

বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ মির্জাপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১২:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

গাজীপুর সদর উপজেলায় চা বিক্রেতা সেলিম মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মির্জাপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আবদুল জাব্বারের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে দিকে সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ভূমি অফিসের বিতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া জানান, আমি মির্জাপুর বাজারে চা বিক্রি করে আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করি। আমার দোকানটি ভূমি অফিসের সাথে হওয়ায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের চা বিক্রি সহ স্যারদের সহযোগিতা করে থাকি। আজ দুপুরে ভূমি অফিসের নায়েব স্যার আমাকে বাইরে থেকে কিছু কাগজ এনে দিতে বলে। পরে কাগজগুলো স্যারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার স্যার এসব কাগজের বিষয়ে জানতে চায়। আমি লেখাপড়া জানি না। তাই এগুলো কীসের কাগজ বলতে পারি নাই। তাই আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে।স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ একাধিক মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সেলিম মিয়া একজন সাধারণ চা বিক্রেতা লেখাপড়া জানে না। সকলে তাকে দিয়ে টুকিটাকি কাজকাম করায়। সরকারি একজন চাকরিজীবী ভূমি অফিসের ভিতরে একজন বয়স্ক মানুষকে এভাবে মারধর করাটা অন্যায় হয়েছে। সে কোনো অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা যেত।

মির্জাপুর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, আমি তাকে বাহির থেকে কয়েকটি স্টাম্প এনে দিতে বলেছিলাম। সরকারি কোনো কাগজপত্র তার হাতে দেওয়া হয়নি।
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন -সেলিম মিয়া আমাদের ভূমি অফিসের কর্মচারী না। তার কাছে সরকারি কাগজপত্র দেখার পর জিজ্ঞেস করলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
গাজীপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকসানা খাইরুন নেছা জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখে তারপর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইবরাহিম খলিল জানান, এ ঘটনায় আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দেখার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।