ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বহুমুখী প্রতারক, জালিয়াত মাদক ও নারী ব্যবসায়ী তথাকথিত মুফতি শামেল অবশেষে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মদ আর নারী যার নেশা! মানুষের সাথে প্রতারণা করে একের পর এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মুফতি শহীদুল ইসলামের ছেলে এহতেশামুল হক শামেল।
কখনো নিজেকে মন্ত্রীর আত্নীয়, সচিবের আত্নীয় আবার কখনো নিজেকে মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্নীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
চলচ্চিত্র জগতের কিছু উঠতি নায়ক-নায়িকাদের একাজে ব্যবহার করেন এই শামেল। তাছাড়া পুলিশের সাবেক কিছু অসাধু কর্মকর্তা তার সকল অপকর্মের পৃষ্ঠপোষক বলে জানা যায়।
তার প্রতারণা থেকে রক্ষা পায়নি তার আপন ভগ্নিপতিও। যার এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালে নবীনগর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তার বহুমুখী প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে অনেকেই পথে পথে ঘুরছেন। কখনো আবাসন, কখনো ফ্ল্যাট বা জমি নানান কথায় মানুষকে আকৃষ্ট করে। সুন্দরী নারী দিয়ে বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এই শামেল। কথিত রয়েছে এই শামেল একজন মুফতি!


তার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাবেক পুলিশ, মেজর ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও। দুরন্ধর এই প্রতারক সর্বশেষ মোঃ আজিজুস সালেহীন নামক এক প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে গাজীপুরের রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ এর মালিকানা দেওয়ার শর্তে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু ঐ ব্যবসায়ীর নামে কোন ভবন বা জমি না কেনায় তার সন্দেহ হয়। তিনি বিভিন্ন তথ্যে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন- রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ তার মালিকানাধীন কোন প্রতিষ্ঠান নয়। প্রতারণায় ধরা পড়ে যাওয়ায় আত্নগোপনে চলে যায় প্রতারক শামেল।
অতপরঃ ঐ ব্যবসায়ী বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৫ তারিখঃ ০৪/০২/২০২৩ইং।
এছাড়াও ঐ ব্যবসায়ী প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার ফলশ্রুতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উক্ত মামলাটি ডিবি’র প্রধানকে মার্ক করেন। অদ্য ১০আগস্ট ডিবি কর্তৃক শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
জানা যায়- এই প্রতারক নানান নামে কোম্পানি করে মানুষের টাকা আত্নসাৎ করেন। এক্সিস, হ্যাভিটেশান, তাজমহল আবাসনসহ নানান নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে।
রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ নামক যৌথমালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে একক মালিক দাবি করে মানুষকে প্রতারিত যাচ্ছে এবং এই রিসোর্টের অন্যান্য মালিকদের জমি ও ভবন জোরপূর্বক দখল করে চলেছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ আজিজুস সালেহীন এর সাথে কথা হলে- তিনি বলেন, এই প্রতারক শামেল আমাকে ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে আমার থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সে একজন বড় মাপের প্রতারক। খোঁজ নিলে বিস্তারিত জানতে পারবেন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩
৩৩২ বার পড়া হয়েছে

বহুমুখী প্রতারক, জালিয়াত মাদক ও নারী ব্যবসায়ী তথাকথিত মুফতি শামেল অবশেষে গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৩

মদ আর নারী যার নেশা! মানুষের সাথে প্রতারণা করে একের পর এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার মুফতি শহীদুল ইসলামের ছেলে এহতেশামুল হক শামেল।
কখনো নিজেকে মন্ত্রীর আত্নীয়, সচিবের আত্নীয় আবার কখনো নিজেকে মন্ত্রীর স্ত্রীর আত্নীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন।
চলচ্চিত্র জগতের কিছু উঠতি নায়ক-নায়িকাদের একাজে ব্যবহার করেন এই শামেল। তাছাড়া পুলিশের সাবেক কিছু অসাধু কর্মকর্তা তার সকল অপকর্মের পৃষ্ঠপোষক বলে জানা যায়।
তার প্রতারণা থেকে রক্ষা পায়নি তার আপন ভগ্নিপতিও। যার এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালে নবীনগর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তার বহুমুখী প্রতারণায় নিঃস্ব হয়ে অনেকেই পথে পথে ঘুরছেন। কখনো আবাসন, কখনো ফ্ল্যাট বা জমি নানান কথায় মানুষকে আকৃষ্ট করে। সুন্দরী নারী দিয়ে বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় এই শামেল। কথিত রয়েছে এই শামেল একজন মুফতি!


তার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাবেক পুলিশ, মেজর ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরাও। দুরন্ধর এই প্রতারক সর্বশেষ মোঃ আজিজুস সালেহীন নামক এক প্রতিষ্ঠিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে গাজীপুরের রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ এর মালিকানা দেওয়ার শর্তে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু ঐ ব্যবসায়ীর নামে কোন ভবন বা জমি না কেনায় তার সন্দেহ হয়। তিনি বিভিন্ন তথ্যে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন- রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ তার মালিকানাধীন কোন প্রতিষ্ঠান নয়। প্রতারণায় ধরা পড়ে যাওয়ায় আত্নগোপনে চলে যায় প্রতারক শামেল।
অতপরঃ ঐ ব্যবসায়ী বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৫ তারিখঃ ০৪/০২/২০২৩ইং।
এছাড়াও ঐ ব্যবসায়ী প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যার ফলশ্রুতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উক্ত মামলাটি ডিবি’র প্রধানকে মার্ক করেন। অদ্য ১০আগস্ট ডিবি কর্তৃক শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
জানা যায়- এই প্রতারক নানান নামে কোম্পানি করে মানুষের টাকা আত্নসাৎ করেন। এক্সিস, হ্যাভিটেশান, তাজমহল আবাসনসহ নানান নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে।
রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ নামক যৌথমালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে একক মালিক দাবি করে মানুষকে প্রতারিত যাচ্ছে এবং এই রিসোর্টের অন্যান্য মালিকদের জমি ও ভবন জোরপূর্বক দখল করে চলেছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ আজিজুস সালেহীন এর সাথে কথা হলে- তিনি বলেন, এই প্রতারক শামেল আমাকে ব্যবসায়িক পার্টনার করার কথা বলে আমার থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সে একজন বড় মাপের প্রতারক। খোঁজ নিলে বিস্তারিত জানতে পারবেন