ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বরিশালের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে আদালতের নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আদালত। তাকে ১০ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক হাসিবুল হাসান সোমবার (১৭ জুলাই) বাদী পক্ষের নিষেধাজ্ঞা শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ-সহকারী বায়েজিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) মামলায় সাদিকের বিরুদ্ধে ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি, ক্লাব পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ও পদ না ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। তখন আদালতের বিচারক মামলাটি (দেওয়ানী মামলা নং ৩৬৮/২০২৩) গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে দিয়েছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানায়, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য মফিজুর রহমান চৌধুরী মামলা দায়েরের পর আদালত শুনানির জন্য রেখে দেয়। সোমবার বাদী আইনজীবীর মাধ্যমে আরেকটি দরখাস্ত দিয়ে আসামির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা আদেশ চেয়ে আবেদন করে। আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও নিষেধাজ্ঞা আবেদনের শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করেন। একইসাথে আসামি বরিশাল ক্লাবের সভাপতি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বরিশাল ক্লাব সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে কেন তাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবেনা আগামী ১০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে আদেশ দেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মামলার আসামি সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য হন। নিয়মানুযায়ী বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য সদস্য পদে ১০ বছর থাকতে হবে। সেই হিসেবে সাদিক আবদুল্লাহ ২০২৬ সালে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ৮ মার্চ গঠনতন্ত্রের ৩২ (খ) ধারা লঙ্ঘন করে বেআইনি ও অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, সাদিক আবদুল্লাহ বেআইনিভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ক্লাবের ২টি রুমে থাকার ব্যবস্থা করেন। রুম ভাড়া ও ক্যাফেটরিয়ায় খাবার বিল বাবদ কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকার দায়ভার বাদী মফিজুরসহ ক্লাবের সদস্যদের বহন করছেন।

প্রতি দুই বছর পর পর ক্লাবের স্থায়ী/আজীবন সদস্যদের ভোটে সভাপতি ও পরিচালকরা নির্বাচিত হন। সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের পর থেকে কোনো ধরনের নির্বাচন দেননি। তাই মামলার বাদী মফিজুর গত ৭ জুলাই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সাদিক আবদুল্লাহ সভাপতির পদ ছাড়বেন বলে জানিয়ে দেওয়ায় ক্লাবের স্বার্থে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, ভোটাররা জনপ্রতিনিধিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করে থাকেন। তাই আইন অনুযায়ী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদের মেয়র হিসেবে ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর সাদিক আবদুল্লাহ শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর তিনি প্রথম সভা করেন। সেই হিসেব অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর। তাই চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র পদে থাকবেন। তারপরই ১৫ নভেম্বর নতুন মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৫:৫০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
২৫৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে আদালতের নোটিশ

আপডেট সময় ০৫:৫০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

বরিশাল ক্লাবের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে আদালত। তাকে ১০ দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক হাসিবুল হাসান সোমবার (১৭ জুলাই) বাদী পক্ষের নিষেধাজ্ঞা শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ-সহকারী বায়েজিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) মামলায় সাদিকের বিরুদ্ধে ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি, ক্লাব পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ও পদ না ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। তখন আদালতের বিচারক মামলাটি (দেওয়ানী মামলা নং ৩৬৮/২০২৩) গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে দিয়েছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানায়, সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য মফিজুর রহমান চৌধুরী মামলা দায়েরের পর আদালত শুনানির জন্য রেখে দেয়। সোমবার বাদী আইনজীবীর মাধ্যমে আরেকটি দরখাস্ত দিয়ে আসামির দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা আদেশ চেয়ে আবেদন করে। আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা ও নিষেধাজ্ঞা আবেদনের শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করেন। একইসাথে আসামি বরিশাল ক্লাবের সভাপতি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে বরিশাল ক্লাব সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে কেন তাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবেনা আগামী ১০ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শাতে আদেশ দেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মামলার আসামি সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সদস্য হন। নিয়মানুযায়ী বরিশাল ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য সদস্য পদে ১০ বছর থাকতে হবে। সেই হিসেবে সাদিক আবদুল্লাহ ২০২৬ সালে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। কিন্তু সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ৮ মার্চ গঠনতন্ত্রের ৩২ (খ) ধারা লঙ্ঘন করে বেআইনি ও অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, সাদিক আবদুল্লাহ বেআইনিভাবে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ক্লাবের ২টি রুমে থাকার ব্যবস্থা করেন। রুম ভাড়া ও ক্যাফেটরিয়ায় খাবার বিল বাবদ কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকার দায়ভার বাদী মফিজুরসহ ক্লাবের সদস্যদের বহন করছেন।

প্রতি দুই বছর পর পর ক্লাবের স্থায়ী/আজীবন সদস্যদের ভোটে সভাপতি ও পরিচালকরা নির্বাচিত হন। সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের পর থেকে কোনো ধরনের নির্বাচন দেননি। তাই মামলার বাদী মফিজুর গত ৭ জুলাই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু সাদিক আবদুল্লাহ সভাপতির পদ ছাড়বেন বলে জানিয়ে দেওয়ায় ক্লাবের স্বার্থে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, ভোটাররা জনপ্রতিনিধিকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করে থাকেন। তাই আইন অনুযায়ী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদের মেয়র হিসেবে ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর সাদিক আবদুল্লাহ শপথ নেন। শপথ নেওয়ার পর ওই বছরের ১৪ নভেম্বর তিনি প্রথম সভা করেন। সেই হিসেব অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর। তাই চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র পদে থাকবেন। তারপরই ১৫ নভেম্বর নতুন মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্ব পাবেন।