ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পুত্রবধূর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে নিখোঁজের নাটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে উজ্জ্বল শেখ। এ ঘটনায় উজ্জ্বলের বাবা কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশ ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মেহের আলীর মেয়ে মিনু বেগমের সঙ্গে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় চাচাতো ভাই উজ্জ্বল শেখের (৩০)। সন্তান না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও দেবরের স্ত্রী। দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন উজ্জ্বল। এরপর থেকে মিনুর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। উজ্জ্বল শেখ ফরিদপুরের মধুখালীর একটি জুট মিলের শ্রমিক। ৫ আগস্ট রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফেরার পর স্ত্রীর মোবাইল ব্যবহার নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মিনুকে গলা টিপে হত্যা করে উজ্জ্বল। পরে পাশের কক্ষে থাকা তার মা-বাবা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং নানি শাশুড়িকে ডেকে তোলে। তারা এসে মিনুর মাথায় পানি ঢালতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণ মিনু বেগম আর বেঁচে নেই। ঘাতক ছেলেকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে উজ্জ্বলের বাবার পরিকল্পনায় সবাই মিলে মিনুর মরদেহ বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

পুলিশ সুপার জানান, মিনুকে হত্যা করে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখে শ্বশুর কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে ৮ আগস্ট বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, তার পুত্রবধূ মিনুর পরকীয়া প্রেম থাকায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে একই দিন মিনুর মা সোনাই বেগম বাদী হয়ে থানায় মিনুর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

১৯ আগস্ট শনিবার বাড়ির টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্য থেকে মিনুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মিনুর মায়ের দায়ের করা অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা জানান, আসামি মিনুর শাশুড়ি জহুরা বেগমকে (৪৭) সোমবার মধ্য রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার আগে সোমবার দুপুরে মিনুর স্বামী উজ্জ্বল শেখকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
৬৯ বার পড়া হয়েছে

পুত্রবধূর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে নিখোঁজের নাটক

আপডেট সময় ০৪:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে উজ্জ্বল শেখ। এ ঘটনায় উজ্জ্বলের বাবা কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশ ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বালিয়াকান্দির বহরপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের মেহের আলীর মেয়ে মিনু বেগমের সঙ্গে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় চাচাতো ভাই উজ্জ্বল শেখের (৩০)। সন্তান না হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও দেবরের স্ত্রী। দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন উজ্জ্বল। এরপর থেকে মিনুর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। উজ্জ্বল শেখ ফরিদপুরের মধুখালীর একটি জুট মিলের শ্রমিক। ৫ আগস্ট রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফেরার পর স্ত্রীর মোবাইল ব্যবহার নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মিনুকে গলা টিপে হত্যা করে উজ্জ্বল। পরে পাশের কক্ষে থাকা তার মা-বাবা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী এবং নানি শাশুড়িকে ডেকে তোলে। তারা এসে মিনুর মাথায় পানি ঢালতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণ মিনু বেগম আর বেঁচে নেই। ঘাতক ছেলেকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে উজ্জ্বলের বাবার পরিকল্পনায় সবাই মিলে মিনুর মরদেহ বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

পুলিশ সুপার জানান, মিনুকে হত্যা করে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রেখে শ্বশুর কুদ্দুস শেখ বাদী হয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে ৮ আগস্ট বালিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, তার পুত্রবধূ মিনুর পরকীয়া প্রেম থাকায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। পরে একই দিন মিনুর মা সোনাই বেগম বাদী হয়ে থানায় মিনুর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

১৯ আগস্ট শনিবার বাড়ির টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্য থেকে মিনুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মিনুর মায়ের দায়ের করা অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা জানান, আসামি মিনুর শাশুড়ি জহুরা বেগমকে (৪৭) সোমবার মধ্য রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার আগে সোমবার দুপুরে মিনুর স্বামী উজ্জ্বল শেখকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।