ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, কাটা হচ্ছে গাছ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

শাল-গজারি ঘেরা বনাঞ্চলের বিশাল আয়তনের সবুজ বনভূমি রয়েছে গাজীপুরে। বনভূমির একটি বড় অংশ রয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলায়। এসবের দেখভালের জন্য ঢাকা বন বিভাগের অধীন গাজীপুর সদরে একটি রেঞ্জ অফিসসহ চারটি বিট অফিস রয়েছে। ওই অফিসগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছে। এরপরেও কর্তৃপক্ষের হেয়ালিপনায় ওই বিশাল বনাঞ্চলটি রক্ষা করতে পারছেন না বন বিভাগ।
জবাবদিহিতা না থাকায় কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বনভূমির রন্ধ্রে রন্ধ্রে নতুন নতুন ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গড়ে উঠছে। লাগাতার বন দখলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও বিলুপ্তির পথে দেশীয় বন্যপ্রাণী।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের অধীন ভাওয়াল রেঞ্জের বারুইপাড়া বিট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর বাজার থেকে পূর্ব দিকে গ্রিনটেক রিসোর্ট পেরিয়ে বনের গহীনে বিলাসবহুল রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিমিটেড। রিসোর্টটির সরকারি কোন অনুমোদন নেই। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত গেষ্ট সার্ভিস দিচ্ছে তারা। সরকারী নিয়মনীতি ও জবাবদিহিতা না থাকায় এই রিসোর্টের কটেজ পার্কটি পরিণত হয়েছে  মদ, নারী আর জোয়ার আসরে। কটেজ পার্কের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত সাকিব নামের এক দায়িত্বশীলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায় ভয়ংকর সব তথ্য।

একসময় মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা এই সাকিব নিজেই রিসোর্টে মদ, নারী আর গাঁজায় আসক্ত হয়ে থাকেন। সম্প্রতি সময়ে এক গেষ্টের সাথে বেয়াদবি করায় ঐ সময় তাকে ধনধোলাই দেয়া হয়। যার তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের নিকট রক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গাজীপুর এর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে- তারা জানান, রিসোর্টটির কোন অনুমোদন নেই। তারা সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও এই রিসোর্টের বেশ কয়েকটি বিল্ডিং বনের জায়গায় নির্মিত। বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা প্রতিমাসে এখন থেকে মোটা অংকের মাসোহারা গ্রহন করে। এই রিসোর্টের আহাম্মদ নামক কর্মচারী প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা থেকে শুরু করে সকল অনিয়মের সাথে জড়িত। তার সাথে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা পুরো বনাঞ্চল ধ্বংসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইতিমধ্যেই বনের অধিকাংশ জায়গা দখল হয়ে গিয়েছে।

বন দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কাটা হয়েছে ছোট-বড় কিছু গাছ।

মূল গেটের রাস্তার দখলীয় অংশে ধীরে ধীরে বন উজাড় করা হয়েছে। এখন সেই অংশ পাকা করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভেতরে ঢুকে কটেজে যাওয়ার রাস্তাও বন ঘেঁষে। রাস্তাটি নির্মাণের সময় কাটা হয়েছে বেশ কিছু ডালপালা। সেখানকার বাউন্ডারি ওয়ালের কিছু অংশও বনে পড়েছে।
এদিকে মূল রিসোর্টের পূর্ব পাশ দিয়ে সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলছে। সেখানে বনের ভেতর দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
হাঁটাচলার প্রায় এক কিলোমিটার সাধারণ পথটি পরিণত হচ্ছে ব্যবসায়িক রাস্তায়। বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ভেঙে যাচ্ছে গাছপালা।

ডিমারকেশনের খুঁটি ছাড়াই চলছে কাজ। এ ছাড়া  রিসোর্টের উত্তর পাশে বনের ওপর দিয়ে আরেকটি রাস্তা করার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিপূর্বে সেখান দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নেওয়ায় প্রায় এক শতাংশ বন উজাড় হয়েছে।

এই রিসোর্টের কোথাও ডিমারকেশনের খুঁটি পাওয়া যায়নি। বন কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ।

বন বিভাগের একজন বলেন, বনের ভেতরে থাকা জোত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে অবশ্যই যৌথ ডিমারকেশন লাগবে। এ ক্ষেত্রে রেকর্ডের বা নিজস্ব রাস্তা ব্যতীত বনের ওপর দিয়ে রাস্তা করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট বিট অফিসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শুরুতে প্রতিরোধ না করায় ক্ষতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩
৬০৫ বার পড়া হয়েছে

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, কাটা হচ্ছে গাছ!

আপডেট সময় ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

শাল-গজারি ঘেরা বনাঞ্চলের বিশাল আয়তনের সবুজ বনভূমি রয়েছে গাজীপুরে। বনভূমির একটি বড় অংশ রয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলায়। এসবের দেখভালের জন্য ঢাকা বন বিভাগের অধীন গাজীপুর সদরে একটি রেঞ্জ অফিসসহ চারটি বিট অফিস রয়েছে। ওই অফিসগুলোতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছে। এরপরেও কর্তৃপক্ষের হেয়ালিপনায় ওই বিশাল বনাঞ্চলটি রক্ষা করতে পারছেন না বন বিভাগ।
জবাবদিহিতা না থাকায় কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বনভূমির রন্ধ্রে রন্ধ্রে নতুন নতুন ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গড়ে উঠছে। লাগাতার বন দখলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও বিলুপ্তির পথে দেশীয় বন্যপ্রাণী।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের অধীন ভাওয়াল রেঞ্জের বারুইপাড়া বিট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর বাজার থেকে পূর্ব দিকে গ্রিনটেক রিসোর্ট পেরিয়ে বনের গহীনে বিলাসবহুল রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিমিটেড। রিসোর্টটির সরকারি কোন অনুমোদন নেই। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত গেষ্ট সার্ভিস দিচ্ছে তারা। সরকারী নিয়মনীতি ও জবাবদিহিতা না থাকায় এই রিসোর্টের কটেজ পার্কটি পরিণত হয়েছে  মদ, নারী আর জোয়ার আসরে। কটেজ পার্কের অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত সাকিব নামের এক দায়িত্বশীলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায় ভয়ংকর সব তথ্য।

একসময় মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকা এই সাকিব নিজেই রিসোর্টে মদ, নারী আর গাঁজায় আসক্ত হয়ে থাকেন। সম্প্রতি সময়ে এক গেষ্টের সাথে বেয়াদবি করায় ঐ সময় তাকে ধনধোলাই দেয়া হয়। যার তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের নিকট রক্ষিত রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গাজীপুর এর দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে- তারা জানান, রিসোর্টটির কোন অনুমোদন নেই। তারা সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়াও এই রিসোর্টের বেশ কয়েকটি বিল্ডিং বনের জায়গায় নির্মিত। বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা প্রতিমাসে এখন থেকে মোটা অংকের মাসোহারা গ্রহন করে। এই রিসোর্টের আহাম্মদ নামক কর্মচারী প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা থেকে শুরু করে সকল অনিয়মের সাথে জড়িত। তার সাথে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যারা পুরো বনাঞ্চল ধ্বংসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইতিমধ্যেই বনের অধিকাংশ জায়গা দখল হয়ে গিয়েছে।

বন দখল করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কাটা হয়েছে ছোট-বড় কিছু গাছ।

মূল গেটের রাস্তার দখলীয় অংশে ধীরে ধীরে বন উজাড় করা হয়েছে। এখন সেই অংশ পাকা করার প্রক্রিয়া চলছে।
ভেতরে ঢুকে কটেজে যাওয়ার রাস্তাও বন ঘেঁষে। রাস্তাটি নির্মাণের সময় কাটা হয়েছে বেশ কিছু ডালপালা। সেখানকার বাউন্ডারি ওয়ালের কিছু অংশও বনে পড়েছে।
এদিকে মূল রিসোর্টের পূর্ব পাশ দিয়ে সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলছে। সেখানে বনের ভেতর দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
হাঁটাচলার প্রায় এক কিলোমিটার সাধারণ পথটি পরিণত হচ্ছে ব্যবসায়িক রাস্তায়। বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ভেঙে যাচ্ছে গাছপালা।

ডিমারকেশনের খুঁটি ছাড়াই চলছে কাজ। এ ছাড়া  রিসোর্টের উত্তর পাশে বনের ওপর দিয়ে আরেকটি রাস্তা করার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিপূর্বে সেখান দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী নেওয়ায় প্রায় এক শতাংশ বন উজাড় হয়েছে।

এই রিসোর্টের কোথাও ডিমারকেশনের খুঁটি পাওয়া যায়নি। বন কর্মকর্তারা যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ।

বন বিভাগের একজন বলেন, বনের ভেতরে থাকা জোত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে অবশ্যই যৌথ ডিমারকেশন লাগবে। এ ক্ষেত্রে রেকর্ডের বা নিজস্ব রাস্তা ব্যতীত বনের ওপর দিয়ে রাস্তা করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট বিট অফিসের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শুরুতে প্রতিরোধ না করায় ক্ষতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।