ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢামেকে ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে শিশু চুরি!

নিজস্ব সংবাদ :

শিশুর মা শাহিনা বেগম ও বাবা হিরন মিয়া ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সি একটি শিশু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আব্দুল্লাহ নামে এই নবজাতককে দিনদুপুরে চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ সময় শিশুটির মা ঘুমিয়ে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর গাইনি বিভাগের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নবজাতক চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, একটি শিশু ওয়ার্ড থেকে চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা কাজ করছে। নবজাতকের স্বজনদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের সিসিটিভির ফুটেজ দেখাচ্ছি শনাক্তের জন্য।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, আমাদের এখান থেকে কোনো বাচ্চা ছাড়পত্র ছাড়া বের হতে পারে না। প্রতিটি গেটেই আনসার মোতায়েন আছে। এ শিশুটি কিভাবে বের হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শিশু চুরির সংবাদ পেয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন শিশুটির পরিবারের অভিযোগ শুনে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামের রাজমিস্ত্রি হিরন মিয়ার প্রথম সন্তান আব্দুল্লাহ। বর্তমানে মিরপুরের রূপনগর টিনশেড এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন হিরন। চুরি হওয়া ছেলে শিশুর মায়ের নাম শাহিনা বেগম।

শিশুটির বাবা হিরন মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার তার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাত ৮টার সময় সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তিনি। শিশুটির নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। জন্মের পর শিশুটি তার মায়ের দুধপান করতে পারেনি। তাই পাশের বেডের আরেক নারীর কাছ থেকে দুধ খাওয়ানো হয়েছিল।

পাশের বেডের প্রসূতি নারী নুসরাত নামের ওই নারী বলেন, আমার বাচ্চা অসুস্থ। তাকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আমি বাচ্চাটাকে দুধ খাইয়ে তার দাদি মোরশেদার কাছে দিয়ে আমার বাচ্চার কাছে যাই। ওই সময় শিশুটির মা বেডে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে এসে শুনি শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

শিশুটির দাদি বলেন, বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছে রেখে বারান্দায় কাপড় শুকাতে দিয়ে ফিরে এসে দেখি বাচ্চাটি বেডে নাই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করে গেটে ডিউটিরত আনসারদের বিষয়টি জানাই।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ডিউটিরত আনসার সদস্য মিঠুনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শিশুটির দাদি দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে আমাকে বলেন, আধাঘণ্টা যাবত আমাদের বাচ্চাটি পাচ্ছি না। তিনি যে সময়ের কথা বলছেন, সেই সময়ে ডিউটিতে মাসুদ নামে আরেকজন ছিলেন। আমার সময়ে কোনো বাচ্চা নিয়ে কাউকে যেতে দেখিনি।

সিসিটিভির ফুটেজে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, এক মহিলা জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যাকসিন দেওয়ার গেট দিয়ে বাচ্চা নিয়ে বের হয়েছেন। ওই গেট দুপুর ২টার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩
৪৯ বার পড়া হয়েছে

ঢামেকে ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে শিশু চুরি!

আপডেট সময় ০৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সি একটি শিশু চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আব্দুল্লাহ নামে এই নবজাতককে দিনদুপুরে চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ সময় শিশুটির মা ঘুমিয়ে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর গাইনি বিভাগের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নবজাতক চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, একটি শিশু ওয়ার্ড থেকে চুরি হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা কাজ করছে। নবজাতকের স্বজনদের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমাদের সিসিটিভির ফুটেজ দেখাচ্ছি শনাক্তের জন্য।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, আমাদের এখান থেকে কোনো বাচ্চা ছাড়পত্র ছাড়া বের হতে পারে না। প্রতিটি গেটেই আনসার মোতায়েন আছে। এ শিশুটি কিভাবে বের হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শিশু চুরির সংবাদ পেয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন শিশুটির পরিবারের অভিযোগ শুনে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার শান্তিরহাট গ্রামের রাজমিস্ত্রি হিরন মিয়ার প্রথম সন্তান আব্দুল্লাহ। বর্তমানে মিরপুরের রূপনগর টিনশেড এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন হিরন। চুরি হওয়া ছেলে শিশুর মায়ের নাম শাহিনা বেগম।

শিশুটির বাবা হিরন মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার তার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাত ৮টার সময় সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তান জন্ম দেন তিনি। শিশুটির নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। জন্মের পর শিশুটি তার মায়ের দুধপান করতে পারেনি। তাই পাশের বেডের আরেক নারীর কাছ থেকে দুধ খাওয়ানো হয়েছিল।

পাশের বেডের প্রসূতি নারী নুসরাত নামের ওই নারী বলেন, আমার বাচ্চা অসুস্থ। তাকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আমি বাচ্চাটাকে দুধ খাইয়ে তার দাদি মোরশেদার কাছে দিয়ে আমার বাচ্চার কাছে যাই। ওই সময় শিশুটির মা বেডে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে এসে শুনি শিশুটিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

শিশুটির দাদি বলেন, বাচ্চাটিকে তার মায়ের কাছে রেখে বারান্দায় কাপড় শুকাতে দিয়ে ফিরে এসে দেখি বাচ্চাটি বেডে নাই। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করে গেটে ডিউটিরত আনসারদের বিষয়টি জানাই।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে ডিউটিরত আনসার সদস্য মিঠুনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, শিশুটির দাদি দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে আমাকে বলেন, আধাঘণ্টা যাবত আমাদের বাচ্চাটি পাচ্ছি না। তিনি যে সময়ের কথা বলছেন, সেই সময়ে ডিউটিতে মাসুদ নামে আরেকজন ছিলেন। আমার সময়ে কোনো বাচ্চা নিয়ে কাউকে যেতে দেখিনি।

সিসিটিভির ফুটেজে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, এক মহিলা জরুরি বিভাগের পাশে ভ্যাকসিন দেওয়ার গেট দিয়ে বাচ্চা নিয়ে বের হয়েছেন। ওই গেট দুপুর ২টার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।