ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আইসিটি বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বাইতুল ওরফে আজিমের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় এক সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হয়। গৃহবধূর ভাই অভিযোগটি দিলেও মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

এর আগে নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়ে এবং এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন আজিমের স্ত্রী সোনিয়া বেগমের ভাই মো. আরিফ হোসেন। অভিযোগে জানা গেছে, আজিম তাঁর স্ত্রীকে নানা অজুহাতে মারধর করেন। তাঁর নামে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন তিনি।

এরই মধ্যে গত ২৩ মে সোনিয়াকে তালাক দেন আজিম। এ ঘটনায় গত ৭ জুন আদালতে সোনিয়া মামলা করলে আজিম কৌশলে তাঁকে ফের বিয়ে করে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এর পর তিনি সোনিয়াকে আবার নির্যাতন শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁর স্বামী জ্বরের ওষুধ বলে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ান।

এতে সোনিয়া অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে বস্তায় ভরে পৌর এলাকার হরিপুরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় এক নারী তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান। তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে ভাই আরিফ পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সোনিয়া তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হলেও অজ্ঞাত কারণে মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি বলে অভিযোগ সোনিয়ার।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাইতুল আজিমের সঙ্গে কথা বলতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, তিনি সোমবার সকালে সেখানে যোগদানের পর দুপুরে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এর পর তাঁর ফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

সদর মডেল থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মামলাটি আমলে না নেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। এটি তদন্তাধীন আছে। দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হবে।

কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাববুব-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তাঁকে শিবগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৯:০৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩
১১৬ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি

আপডেট সময় ০৯:০৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আইসিটি বিভাগে কর্মরত অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বাইতুল ওরফে আজিমের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় এক সপ্তাহ আগে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দেওয়া হয়। গৃহবধূর ভাই অভিযোগটি দিলেও মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

এর আগে নির্যাতনের বিষয়টি জানিয়ে এবং এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন আজিমের স্ত্রী সোনিয়া বেগমের ভাই মো. আরিফ হোসেন। অভিযোগে জানা গেছে, আজিম তাঁর স্ত্রীকে নানা অজুহাতে মারধর করেন। তাঁর নামে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেন তিনি।

এরই মধ্যে গত ২৩ মে সোনিয়াকে তালাক দেন আজিম। এ ঘটনায় গত ৭ জুন আদালতে সোনিয়া মামলা করলে আজিম কৌশলে তাঁকে ফের বিয়ে করে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এর পর তিনি সোনিয়াকে আবার নির্যাতন শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁর স্বামী জ্বরের ওষুধ বলে ১০টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ান।

এতে সোনিয়া অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে বস্তায় ভরে পৌর এলাকার হরিপুরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় এক নারী তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান। তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হলে ভাই আরিফ পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সোনিয়া তিন দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হলেও অজ্ঞাত কারণে মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি বলে অভিযোগ সোনিয়ার।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাইতুল আজিমের সঙ্গে কথা বলতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, তিনি সোমবার সকালে সেখানে যোগদানের পর দুপুরে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এর পর তাঁর ফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

সদর মডেল থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মামলাটি আমলে না নেওয়ার তথ্য সঠিক নয়। এটি তদন্তাধীন আছে। দ্রুত মামলা রেকর্ড করা হবে।

কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাববুব-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তাঁকে শিবগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।