ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেই নিবন্ধন-বনের জায়গায় বিল্ডিং

জবর-দখলের তালিকায় রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স বিহীন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে- আয়কর ফাঁকি দেয়া সহ বন-বিভাগের জায়গা দখলের নানা অভিযোগ উঠেছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় প্রতিনিয়ত এলাকায় বহু অপরাধের জন্ম দেয়ার মত চিত্র দেখা গেলেও- যেন দেখার মত কেউ নেই।
জানা যায়, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজে মাদক ও দেহ ব্যবসা সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে এখন সামাজিক চালচিত্র পাল্টে গেছে। বনবিভাগ, আয়কর অফিস ও জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে এসব অজানা কাহিনী বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকাশ্যে দিবালোকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যুবক- যুবতীরা এসে মাদক সেবন সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন রিসোর্ট পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিপরীতে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসক তাদের কাছে যেন অসহায়। সরকারকে আয়কর ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে নিচ্ছে, কিন্তু অন্তরালে অসাধু আয়কর কর্মকর্তারা লোভের পরিস্থিতিতে শিকার। দিনের পর দিন ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে বনাঞ্চলের জমি, মোটা অংকেটাকার কাছে অন্ধকার বনবিভাগ। অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে এমন বাস্তব অসংখ্য তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা যায়, এই বিষয়ে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের নিবন্ধন নেই। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।

বনের জায়গা দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ। উজার হয়ে যাচ্ছে গজারি বন

গজারি বন এলাকায় অবস্থিত রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ লিমিটেডের উদ্বোধনের পর থেকে কোনো আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। আয়কর দেয়ার যোগ্যতা থাকার পরও, অন্তরালে জেলা আয়কর অফিসের অসাধু কতেক অফিসারকে ম্যানেজ করে, রিসোর্টটি আয়কর দেয়া থেকে বিরত থাকছে।

আয়কর পরিদপ্তরের গোপন সূত্র জানায়, রিসোর্টটি কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল তো করেইনি, এমনকি কোনো প্রকার ভ্যাট-ট্যাক্সও পরিশোধ করেনি। উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ১০ বছরেও কোনো রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধ না করায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক কারনে দেখেও না দেখার মতই রয়েছে জেলা আয়কর অফিস।
জানা গেছে, ২০১৪ নামে অবিহিত করা ১৫ নং আইনে বাংলাদেশ হোটেল ও রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আইনে উল্লেখ রয়েছে- প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসক; ‘‘নিবন্ধন সনদ’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন ইস্যুকৃত নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স ব্যতীত, হোটেল ও রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা বিধিনিয়ম করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা মালিক এই আইন প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তাহা, এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। কিন্তু রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স আদৌ আছে কি না! রহস্যজনক কারনে সরেজমিনে গিয়ে জেলা প্রশাসক খতিয়ে দেখেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০২:১৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩
২৫৯ বার পড়া হয়েছে

নেই নিবন্ধন-বনের জায়গায় বিল্ডিং

জবর-দখলের তালিকায় রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ

আপডেট সময় ০২:১৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুলাই ২০২৩

সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স বিহীন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে- আয়কর ফাঁকি দেয়া সহ বন-বিভাগের জায়গা দখলের নানা অভিযোগ উঠেছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের পরিচালনায় প্রতিনিয়ত এলাকায় বহু অপরাধের জন্ম দেয়ার মত চিত্র দেখা গেলেও- যেন দেখার মত কেউ নেই।
জানা যায়, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজে মাদক ও দেহ ব্যবসা সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে এখন সামাজিক চালচিত্র পাল্টে গেছে। বনবিভাগ, আয়কর অফিস ও জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে এসব অজানা কাহিনী বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকাশ্যে দিবালোকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যুবক- যুবতীরা এসে মাদক সেবন সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। নিবন্ধন ও লাইসেন্সবিহীন রিসোর্ট পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিপরীতে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসক তাদের কাছে যেন অসহায়। সরকারকে আয়কর ফাঁকি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে নিচ্ছে, কিন্তু অন্তরালে অসাধু আয়কর কর্মকর্তারা লোভের পরিস্থিতিতে শিকার। দিনের পর দিন ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে বনাঞ্চলের জমি, মোটা অংকেটাকার কাছে অন্ধকার বনবিভাগ। অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে এমন বাস্তব অসংখ্য তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা যায়, এই বিষয়ে গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের নিবন্ধন নেই। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই আমরা অভিযান পরিচালনা করবো।

বনের জায়গা দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ। উজার হয়ে যাচ্ছে গজারি বন

গজারি বন এলাকায় অবস্থিত রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ লিমিটেডের উদ্বোধনের পর থেকে কোনো আয়কর রিটার্ন জমা দেয়নি। আয়কর দেয়ার যোগ্যতা থাকার পরও, অন্তরালে জেলা আয়কর অফিসের অসাধু কতেক অফিসারকে ম্যানেজ করে, রিসোর্টটি আয়কর দেয়া থেকে বিরত থাকছে।

আয়কর পরিদপ্তরের গোপন সূত্র জানায়, রিসোর্টটি কোনো আয়কর রিটার্ন দাখিল তো করেইনি, এমনকি কোনো প্রকার ভ্যাট-ট্যাক্সও পরিশোধ করেনি। উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ১০ বছরেও কোনো রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধ না করায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক কারনে দেখেও না দেখার মতই রয়েছে জেলা আয়কর অফিস।
জানা গেছে, ২০১৪ নামে অবিহিত করা ১৫ নং আইনে বাংলাদেশ হোটেল ও রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ আইনে উল্লেখ রয়েছে- প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসক; ‘‘নিবন্ধন সনদ’’ অর্থ ধারা ৮ এর অধীন ইস্যুকৃত নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স ব্যতীত, হোটেল ও রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা বিধিনিয়ম করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা মালিক এই আইন প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তাহা, এই আইনের অধীন অপরাধ বলে গণ্য হবে এবং তজ্জন্য তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। কিন্তু রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট এন্ড ভিলেজ লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স আদৌ আছে কি না! রহস্যজনক কারনে সরেজমিনে গিয়ে জেলা প্রশাসক খতিয়ে দেখেনি।