ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজির অভিযোগে ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব সংবাদ :

চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজবাড়ির গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) চারজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার নওয়াপাড়ার মেসার্স সায়াদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইমরান হুসাইন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী জিএম কামরুজ্জামান ভুট্টো।

অভিযুক্তরা হলেন- গোয়ালন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার, এসআই মনিরুল ইসলাম এবং পুলিশের কথিত সোর্স গোয়ালন্দঘাটের উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের মালেক মোল্লার ছেলে সোহেল ওরফে ভাঙ্গা সোহেল ও সাহজুদ্দিন ব্যাপারীপাড়ার প্রয়াত সিদ্দিক শেখের ছেলে ইয়াসিন শেখ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নদীপথে বিভিন্ন প্রকার মালামাল পরিবহন করা হয়। গত বছরের অর্থাৎ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গোয়ালন্দ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি শাখা অফিস স্থাপন করেন। অফিস উদ্বোধনের কিছুদিন পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে তাকে ফেরিঘাটের পুলিশ বক্সে ডেকে নিয়ে যান। এসময় ওসি ও এসআই তাকে বলেন যে, এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। নতুবা তাকে বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে নাজেহাল করা হবে। ফলে ইমরান হুসাইন ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে একই বছরের ১০ মার্চ চাঁদা হিসেবে ওসিকে ২১ হাজার টাকা ও এসআইকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। এছাড়া ওসি ও এসআই’র দাবি অনুযায়ী একই বছরের ২৮ এপ্রিল ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে ৪ কার্টন খেঁজুর এবং সাড়ে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ১৫টি পাঞ্জাবি কিনে দেন ইমরান হুসাইন। এরপরও ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম নানাভাবে হয়রানি করেন। পরবর্তীতে তারা তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু ব্যবসা মন্দার কারণে ইমরান হুসাইন তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে, কোনো উপায় না পেয়ে ওসি স্বপন কুমারকে নগদ এক লাখ টাকা ও এসআই মনিরুল ইসলামকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে দেন ইমরান হুসাইন। এরপর চাঁদার বাকী টাকার জন্য তারা ইমরান হুসাইনকে অব্যাহত হুমকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইমরান হুসাইন ঘোয়ালন্দঘাটের অফিসটি বন্ধ করে দেন। তারপরও চাঁদার জন্য তাকে অব্যাহত হুমকি দেওয়ায় গত ২৫ মে ইমরান হোসেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি ও রাজবাড়ি পুলিশ সুপার বরাবার লিখিত অভিযোগ করেন।

গত ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর বরাবরও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে তিনি অভিযোগ দেওয়ায় কারণে তার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হন ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম। তারা চাঁদার বাকী সাত লাখ ৩০ হাজার টাকার জন্য তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে ইমরান হুসাইনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ১০:৫২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩
৪০ বার পড়া হয়েছে

চাঁদাবাজির অভিযোগে ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১০:৫২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অগাস্ট ২০২৩

চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজবাড়ির গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) চারজনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার নওয়াপাড়ার মেসার্স সায়াদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইমরান হুসাইন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী জিএম কামরুজ্জামান ভুট্টো।

অভিযুক্তরা হলেন- গোয়ালন্দ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার, এসআই মনিরুল ইসলাম এবং পুলিশের কথিত সোর্স গোয়ালন্দঘাটের উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের মালেক মোল্লার ছেলে সোহেল ওরফে ভাঙ্গা সোহেল ও সাহজুদ্দিন ব্যাপারীপাড়ার প্রয়াত সিদ্দিক শেখের ছেলে ইয়াসিন শেখ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নদীপথে বিভিন্ন প্রকার মালামাল পরিবহন করা হয়। গত বছরের অর্থাৎ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি গোয়ালন্দ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একটি শাখা অফিস স্থাপন করেন। অফিস উদ্বোধনের কিছুদিন পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে তাকে ফেরিঘাটের পুলিশ বক্সে ডেকে নিয়ে যান। এসময় ওসি ও এসআই তাকে বলেন যে, এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে। নতুবা তাকে বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে নাজেহাল করা হবে। ফলে ইমরান হুসাইন ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে একই বছরের ১০ মার্চ চাঁদা হিসেবে ওসিকে ২১ হাজার টাকা ও এসআইকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন। এছাড়া ওসি ও এসআই’র দাবি অনুযায়ী একই বছরের ২৮ এপ্রিল ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে ৪ কার্টন খেঁজুর এবং সাড়ে ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ১৫টি পাঞ্জাবি কিনে দেন ইমরান হুসাইন। এরপরও ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম নানাভাবে হয়রানি করেন। পরবর্তীতে তারা তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু ব্যবসা মন্দার কারণে ইমরান হুসাইন তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে, কোনো উপায় না পেয়ে ওসি স্বপন কুমারকে নগদ এক লাখ টাকা ও এসআই মনিরুল ইসলামকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে দেন ইমরান হুসাইন। এরপর চাঁদার বাকী টাকার জন্য তারা ইমরান হুসাইনকে অব্যাহত হুমকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইমরান হুসাইন ঘোয়ালন্দঘাটের অফিসটি বন্ধ করে দেন। তারপরও চাঁদার জন্য তাকে অব্যাহত হুমকি দেওয়ায় গত ২৫ মে ইমরান হোসেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি ও রাজবাড়ি পুলিশ সুপার বরাবার লিখিত অভিযোগ করেন।

গত ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর বরাবরও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। বিভিন্ন দপ্তরে তিনি অভিযোগ দেওয়ায় কারণে তার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হন ওসি স্বপন কুমার ও এসআই মনিরুল ইসলাম। তারা চাঁদার বাকী সাত লাখ ৩০ হাজার টাকার জন্য তাদের কথিত সোর্স ভাঙ্গা সোহেল ও ইয়াসিন শেখের মাধ্যমে ইমরান হুসাইনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।