ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পল্লবীতে পাভেল হত্যা

গ্রেফতার আরও তিন, দুজনকে খুঁজছে ডিবি

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবী থানার স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর রিহান ইসলাম ওরফে পাভেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসানের নেতৃত্বে একটি দল টাঙ্গাইল, বরগুনা ও বরিশাল মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার (১৭ এপ্রিল) তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন- রায়হান বাবু (২৪), সোহেল তোতা মামা (২৪) ও বাচ্চু ওরফে কাজল বাচ্চু (২৩)। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এর আগে একই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানার পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেফতার হলো আটজন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুজনকে খুঁজছে পুলিশ। তারা হলেন- তাজমুল ও হানিফ।

মাদক সেবনের জন্য তাজমুল নামে আরেক সহযোগীর মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার পাঁচতালা বাজার এলাকার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে পাভেলকে ডেকে নেওয়া হয় পল্লবীতে। পল্লবী থানার ১২ নং সেক্টরের স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকার টেকেরবাড়ি নামক স্থানে গণপূর্তের পুকুরের উত্তরপাড়ে মাদক সেবন করেন পাভেল। এরমধ্যে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে বাসযোগে আসেন মূল পরিকল্পনাকারী হাবিবসহ আরও কয়েকজন। সবাই একসঙ্গে পাভেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। চাকু ও ছুরি দিয়ে পেট ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি আঘাত করা হয়।

এরপর তাকে গণপূর্তের পুকুরের পানিতে ফেলে পালিয়ে যায় সবাই। স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে পাভেলের মরদেহ উদ্ধারের পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাভেলের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায়।

এ ঘটনার পর গত ১৫ এপ্রিল তার মা পারুল বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ৬ জন। তারা হলেন- মো. হাবিব (২৮), মো. হানিফ (২৬), মো. আনিছ (২২), রায়হান নানু (২২), মো. মিলন (৩৭), ও মো. জনি (২৬)। বাকি আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকের জের ধরে হত্যার শিকার পাভেল। ভুক্তভোগী ও মূল অভিযুক্ত বন্ধু হলেও তাদের মধ্যে শত্রুতা ছিল।

তিনি বলেন, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গ্রুপিং নিয়ে পাভেল ও হাবিবের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। সেসময় পাভেল হাবিবের হাতে কোপ দিয়েছিল। ওই ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাও হয়। পাভেল জেল খাটলেও হাবিব শত্রুতা ভুলে যায়নি।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, জেল থেকে বের হলেও হাবিব পাভেলকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। তাজমুল মোটরসাইকেলযোগে পাভেলকে পল্লবীতে নিয়ে যায়। হাবিবের দুই ভাই হানিফ ও আনিছসহ কয়েকজন মিলে পাভেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে ডিবি মিরপুর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি থানা পুলিশও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

১৬ এপ্রিল রাতে পল্লবী থানা পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সত্যতা ও জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মূল পরিকল্পনাকারী হাবিব। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাকি চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসান জানান, পাভেল হত্যায় এখনো দুজন পলাতক রয়েছে। পাভেল হত্যায় ব্যবহৃত আরটিআর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পাভেলকে তুলে নিয়ে আসা তাজমুল ও হাবিবের আরেক ভাই হানিফ এখনো পলাতক। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
২৫ বার পড়া হয়েছে

পল্লবীতে পাভেল হত্যা

গ্রেফতার আরও তিন, দুজনকে খুঁজছে ডিবি

আপডেট সময় ০৪:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

রাজধানীর পল্লবী থানার স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকায় চাঞ্চল্যকর রিহান ইসলাম ওরফে পাভেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসানের নেতৃত্বে একটি দল টাঙ্গাইল, বরগুনা ও বরিশাল মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার (১৭ এপ্রিল) তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন- রায়হান বাবু (২৪), সোহেল তোতা মামা (২৪) ও বাচ্চু ওরফে কাজল বাচ্চু (২৩)। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এর আগে একই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানার পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেফতার হলো আটজন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও দুজনকে খুঁজছে পুলিশ। তারা হলেন- তাজমুল ও হানিফ।

মাদক সেবনের জন্য তাজমুল নামে আরেক সহযোগীর মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর বাড্ডার পাঁচতালা বাজার এলাকার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে পাভেলকে ডেকে নেওয়া হয় পল্লবীতে। পল্লবী থানার ১২ নং সেক্টরের স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকার টেকেরবাড়ি নামক স্থানে গণপূর্তের পুকুরের উত্তরপাড়ে মাদক সেবন করেন পাভেল। এরমধ্যে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে বাসযোগে আসেন মূল পরিকল্পনাকারী হাবিবসহ আরও কয়েকজন। সবাই একসঙ্গে পাভেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। চাকু ও ছুরি দিয়ে পেট ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি আঘাত করা হয়।

এরপর তাকে গণপূর্তের পুকুরের পানিতে ফেলে পালিয়ে যায় সবাই। স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে পাভেলের মরদেহ উদ্ধারের পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাভেলের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায়।

এ ঘটনার পর গত ১৫ এপ্রিল তার মা পারুল বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ৬ জন। তারা হলেন- মো. হাবিব (২৮), মো. হানিফ (২৬), মো. আনিছ (২২), রায়হান নানু (২২), মো. মিলন (৩৭), ও মো. জনি (২৬)। বাকি আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকের জের ধরে হত্যার শিকার পাভেল। ভুক্তভোগী ও মূল অভিযুক্ত বন্ধু হলেও তাদের মধ্যে শত্রুতা ছিল।

তিনি বলেন, রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় গ্রুপিং নিয়ে পাভেল ও হাবিবের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। সেসময় পাভেল হাবিবের হাতে কোপ দিয়েছিল। ওই ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বাড্ডা থানায় মামলাও হয়। পাভেল জেল খাটলেও হাবিব শত্রুতা ভুলে যায়নি।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, জেল থেকে বের হলেও হাবিব পাভেলকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। তাজমুল মোটরসাইকেলযোগে পাভেলকে পল্লবীতে নিয়ে যায়। হাবিবের দুই ভাই হানিফ ও আনিছসহ কয়েকজন মিলে পাভেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে ডিবি মিরপুর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি থানা পুলিশও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

১৬ এপ্রিল রাতে পল্লবী থানা পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সত্যতা ও জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মূল পরিকল্পনাকারী হাবিব। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাকি চারজনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসান জানান, পাভেল হত্যায় এখনো দুজন পলাতক রয়েছে। পাভেল হত্যায় ব্যবহৃত আরটিআর মোটরসাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পাভেলকে তুলে নিয়ে আসা তাজমুল ও হাবিবের আরেক ভাই হানিফ এখনো পলাতক। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।