ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইস্তেগফার কাকে বলে, ফজিলত কী?

ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। গুনাহ হয়ে গেলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নামই মূলত ইস্তেগফার। কোনো গুনাহ কিংবা ভুল করে ফেললে সাধারণত আমরা أَسْتَغْفِرُالله ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি। এটি ইস্তেগফারেরই একটি রূপ। এর অর্থ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ প্রতি ফরজ নামাজে সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ (স.) তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। (মেশকাত: ৯৬১)

ইস্তেগফার একটি স্বতন্ত্র ইবাদত এবং আল্লাহর খুব পছন্দের ইবাদত। তাই প্রিয়নবী (স.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা ও ইস্তেগফার করতেন। নামাজ আদায়ের পর তিনবার ইস্তেগফার পড়া সুন্নত। অর্থাৎ ইস্তিগফার শুধু পাপের পরে নয়, ইবাদতের পরেও করা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।

 

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অনেক মাসনুন দোয়া রয়েছে। প্রত্যেকটি দোয়ার মাধ্যমে যেকোনো সময় ইস্তেগফার করা যায়। বান্দা অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও করুণাময় হিসেবে পায়।’ (সুরা নিসা: ১১০)

গুনাহ মাফ ছাড়াও ইস্তেগফারের ৬ বিস্ময়কর উপকার

ইস্তেগফারের নিয়ম
ইস্তেগফার করার নিয়ম হলো— প্রথমত অতীত গুনাহের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি প্রদানপূর্বক আল্লাহর কাছে লজ্জিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত ভবিষ্যতে ওই গুনাহ না করার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তৃতীয়ত নিজের কৃত অপরাধের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং সর্বশেষ হৃদয় থেকে ওই পাপকর্মকে ঘৃণা করতে হবে। আর কৃত অপরাধের সঙ্গে যদি কোনো বান্দার হক জড়িত থাকে, তাহলে তা আদায় করে দিতে হবে।

ইস্তেগফারের ফজিলত
ইস্তেগফারের বহুবিদ উপকারিতা রয়েছে। একাধিক হাদিসের বর্ণনায় দেখা যায়, ইস্তেগফারের মাধ্যমে শুধু পরকালীন পুরস্কার নয়, বান্দা দুনিয়ার সফলতাও অর্জন করে। ইস্তেগফারের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে যেসব বিষয়ে বান্দা উপকৃত হয়, এর অন্যতম হলো—
১. গুনাহ মাফ হয়
২. বালা-মুসিবত দূর হয়।
৩. রিজিক প্রশস্ত হয়।
৪. পরিবারে শান্তি আসে।
৫. ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৬. হৃদয় স্বচ্ছ ও নির্মল হয়।
৭. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
৮. চিন্তা-পেরেশানি দূর হয়।
৯. রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়।
১০. সুসন্তান লাভ হয়।
১১. নদী-নালা প্রবাহিত হয়।
১২. সম্মানিতদের সম্মান বৃদ্ধি পায়।
১৩. আজাব-গজব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
১৪. মুস্তাজাবুদ দাওয়ার গুণ অর্জন হয়।
১৫. পরকালে জান্নাত লাভ হয়। (সুরা হুদ: ৫২, সুরা আনফাল: ৩৩, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ি, সুরা নুহ: ১০-১২ ও সুরা হুদ: ৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইস্তেগফারকে সঙ্গী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৪:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
১৪৩ বার পড়া হয়েছে

ইস্তেগফার কাকে বলে, ফজিলত কী?

আপডেট সময় ০৪:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩

ইস্তেগফার অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। গুনাহ হয়ে গেলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নামই মূলত ইস্তেগফার। কোনো গুনাহ কিংবা ভুল করে ফেললে সাধারণত আমরা أَسْتَغْفِرُالله ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ি। এটি ইস্তেগফারেরই একটি রূপ। এর অর্থ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ প্রতি ফরজ নামাজে সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ (স.) তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন। (মেশকাত: ৯৬১)

ইস্তেগফার একটি স্বতন্ত্র ইবাদত এবং আল্লাহর খুব পছন্দের ইবাদত। তাই প্রিয়নবী (স.) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা ও ইস্তেগফার করতেন। নামাজ আদায়ের পর তিনবার ইস্তেগফার পড়া সুন্নত। অর্থাৎ ইস্তিগফার শুধু পাপের পরে নয়, ইবাদতের পরেও করা মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।

 

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার অনেক মাসনুন দোয়া রয়েছে। প্রত্যেকটি দোয়ার মাধ্যমে যেকোনো সময় ইস্তেগফার করা যায়। বান্দা অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও করুণাময় হিসেবে পায়।’ (সুরা নিসা: ১১০)

গুনাহ মাফ ছাড়াও ইস্তেগফারের ৬ বিস্ময়কর উপকার

ইস্তেগফারের নিয়ম
ইস্তেগফার করার নিয়ম হলো— প্রথমত অতীত গুনাহের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি প্রদানপূর্বক আল্লাহর কাছে লজ্জিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত ভবিষ্যতে ওই গুনাহ না করার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তৃতীয়ত নিজের কৃত অপরাধের জন্য কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং সর্বশেষ হৃদয় থেকে ওই পাপকর্মকে ঘৃণা করতে হবে। আর কৃত অপরাধের সঙ্গে যদি কোনো বান্দার হক জড়িত থাকে, তাহলে তা আদায় করে দিতে হবে।

ইস্তেগফারের ফজিলত
ইস্তেগফারের বহুবিদ উপকারিতা রয়েছে। একাধিক হাদিসের বর্ণনায় দেখা যায়, ইস্তেগফারের মাধ্যমে শুধু পরকালীন পুরস্কার নয়, বান্দা দুনিয়ার সফলতাও অর্জন করে। ইস্তেগফারের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে যেসব বিষয়ে বান্দা উপকৃত হয়, এর অন্যতম হলো—
১. গুনাহ মাফ হয়
২. বালা-মুসিবত দূর হয়।
৩. রিজিক প্রশস্ত হয়।
৪. পরিবারে শান্তি আসে।
৫. ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৬. হৃদয় স্বচ্ছ ও নির্মল হয়।
৭. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
৮. চিন্তা-পেরেশানি দূর হয়।
৯. রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়।
১০. সুসন্তান লাভ হয়।
১১. নদী-নালা প্রবাহিত হয়।
১২. সম্মানিতদের সম্মান বৃদ্ধি পায়।
১৩. আজাব-গজব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
১৪. মুস্তাজাবুদ দাওয়ার গুণ অর্জন হয়।
১৫. পরকালে জান্নাত লাভ হয়। (সুরা হুদ: ৫২, সুরা আনফাল: ৩৩, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ি, সুরা নুহ: ১০-১২ ও সুরা হুদ: ৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইস্তেগফারকে সঙ্গী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।