ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা, বিএনপির ১৪৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৪৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ কর্মী সজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার সোনাইমুড়ী থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার জানাজানি হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, তবে এ মামলার কোনো আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা জানান, নোয়াখালীতে বিএনপির পদযাত্রা সমাবেশে যোগ দিতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ১৩ জুলাই বিকালে গাড়ি বহর নিয়ে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়ক হয়ে নোয়াখালী জেলা শহরে আসছিলেন। যাত্রাপথে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়কের সামনে আসলে উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে সেখানে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও তিনজন ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকে গুরুতর আহত করে। ঘটনার দুই দিন পর উল্টো বিএনপির ১৪৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি আরিফ হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার নেতৃত্বে কোনো হামলা হয়নি। ইশরাকের গাড়িবহর থেকে আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে অশ্লীল স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় এমপিসহ দলীয় নেতাদের রাস্তার পাশে থাকা ফেস্টুন ভেঙে ফেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে বাইপাস সড়ক এলাকায় আসলে ছাত্রলীগ প্রতিবাদ করে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে ৪-৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে থেকে সজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্ল্যা বুলুর ছেলে মোহাম্মদ সানিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোতাহার হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজায়ে রাব্বি মাহবুব, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল মনসুর সেলিম, সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন টুটুল, উপজেলা যুবদল সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া, পৌর যুবদল সভাপতি মারুফুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নাজিম উদ্দীন রনি, সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সাদ্দাম, পৌর ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন রাজু, সাধারণ সম্পাদক সোহেল উদ্দিন সজিবসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০-১২০ জনকে আসামি করা হয়।

নির্বাচনের আগে মাঠ ছাড়া করতে নোয়াখালীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান। তারা অভিযোগ করে বলেন, অবাক লাগে তারা হামলা চালাল, এরপর উল্টো আবার মিথ্যা মামলা দিল। আমরা সোনাইমুড়ী ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী হামলা ও এ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলার থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর মামলা নেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জিয়াউল হক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ করেনি। যারা অভিযোগ করেছে তাদের মামলা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dainik Renaissance

আমাদের ওয়েসাইটে আপনাকে স্বাগতম। আপনাদের আশে পাশের সকল সংবাদ দিয়ে আমাদের সহযোগীতা করুন
আপডেট সময় ০৬:০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
১৩৬ বার পড়া হয়েছে

ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা, বিএনপির ১৪৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

আপডেট সময় ০৬:০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১৪৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ কর্মী সজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার সোনাইমুড়ী থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০-১২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি সোমবার জানাজানি হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, তবে এ মামলার কোনো আসামিকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা জানান, নোয়াখালীতে বিএনপির পদযাত্রা সমাবেশে যোগ দিতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ১৩ জুলাই বিকালে গাড়ি বহর নিয়ে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়ক হয়ে নোয়াখালী জেলা শহরে আসছিলেন। যাত্রাপথে সোনাইমুড়ী বাইপাস সড়কের সামনে আসলে উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে সেখানে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও তিনজন ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকে গুরুতর আহত করে। ঘটনার দুই দিন পর উল্টো বিএনপির ১৪৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি আরিফ হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার নেতৃত্বে কোনো হামলা হয়নি। ইশরাকের গাড়িবহর থেকে আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে অশ্লীল স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় এমপিসহ দলীয় নেতাদের রাস্তার পাশে থাকা ফেস্টুন ভেঙে ফেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে বাইপাস সড়ক এলাকায় আসলে ছাত্রলীগ প্রতিবাদ করে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে ৪-৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে থেকে সজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্ল্যা বুলুর ছেলে মোহাম্মদ সানিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোতাহার হোসেন মানিক, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজায়ে রাব্বি মাহবুব, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল মনসুর সেলিম, সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন টুটুল, উপজেলা যুবদল সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজ ভূঁইয়া, পৌর যুবদল সভাপতি মারুফুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নাজিম উদ্দীন রনি, সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সাদ্দাম, পৌর ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন রাজু, সাধারণ সম্পাদক সোহেল উদ্দিন সজিবসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ২৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০০-১২০ জনকে আসামি করা হয়।

নির্বাচনের আগে মাঠ ছাড়া করতে নোয়াখালীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান। তারা অভিযোগ করে বলেন, অবাক লাগে তারা হামলা চালাল, এরপর উল্টো আবার মিথ্যা মামলা দিল। আমরা সোনাইমুড়ী ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী হামলা ও এ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবর্জিত এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলার থেকে বিরত থাকার আহবান জানাই।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার পর মামলা নেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জিয়াউল হক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ করেনি। যারা অভিযোগ করেছে তাদের মামলা নেওয়া হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।